Montag, 23. April 2018

এক ইশ্বর- হাজার প্রশ্ন-?--১






হে অজানা অচেনা অদেখা জগত স্রষ্টা মহান প্রভূ! তুমি আছো কি-বা নাই,আমি তা জানিনা।সত্যিই মোটেই জানিনা।যদি তুমি সত্যিই থেকে থাকো,তো আমি তোমারই সৃষ্টি এক মনুষ্য সন্তান।আমি অবোধ অবুঝ শিশুর মত তোমার কাছে হাজার প্রশ্ন করছি। মনে করো এটা আমার প্রথম বাক্যস্ফুররণ।আমি জানিনা তোমার কাছে কোন প্রশ্ন করা কি আমার উচিত অথবা অবান্তর কিনা। তবু করছি শিশু মনের আকুল আকাঙ্খায়।
আমার শিশু মন প্রতিদিন প্রতিক্ষন ব্যকুল ভাবে জানতে চায়,তোমার ও এই বিশ্বভ্রম্মান্ডের  সৃষ্টিতত্বের ইতিহাস।জানতে চায় এটা কি ওটা কি এবং কেন,কি কারণে এটা হলো, এটা সত্য কি-বা মিথ্যা এসব জানার জন্য।
হে অদেখা জগত স্রষ্টা! হে  প্রভূ ! এই ভাবে জানা শুনার মাধ্যমেই তো আমার পূর্ব পুরুষরা আজ বিশ্ব ভ্রম্মান্ড জয় করিয়াছে।এই ভাবেই তো ওরা তোমাকে তাদের মত করে আবিষ্কার করিতে পারিয়াছে।এই ভাবেই তো জানতে জানতে আজ এই মনুষ্য সমাজ ধর্মে দর্শণে বিজ্ঞানে এত সমৃদ্ধ ও সক্ষম হতে পারিয়াছে।
হে অচিন প্রভূ ! তোমাকে মানুষ শত শত রুপে শত শত নামে আর্বিভূত করলেও আজ  মানুষরাই মেনে নিয়েছে তুমি যে একি স্বত্বা। তোমাকে  কেউ ডাকে আল্লাহ বলে, কেউ ডাকে ইশ্বর বলে,কেউ ডাকে স্রষ্টা বলে, কেউ ডাকে ভগবান বলে, আবার কেউ ডাকে গড বলে। জানিনা তুমি কাহারো ডাকে সাড়া দিয়েছ কিনা বা দাও কিনা?মানুষের অসিম আকাঙ্খার একমাত্র শসিম ও অনন্ত শান্তনা ও ভরসার স্হল হলে তুমি।জানিনা তুমি এই মনুষ্য জাতিকে সৃষ্টি করেছ না কথিত মনুষ্য সন্তানরা তোমাকে সৃষ্টি করেছে।আমি অবোধ মনুষ্য সন্তান তোমাকে  প্রভূ আর ইশ্বর বলে ডাকতেই স্বাচ্ছন্ধবোধ করছি।সাড়া দাও কি-বা নাহি দাও গোস্তাকি ক্ষমা করো যেন হে প্রভূ!


১, হে মহান প্রভূ তুমি আছো কি-বা নাই---?
হে প্রভূ আজ সমগ্র বিশ্বে প্রায় সাড়ে ছয়শত কুঠি মানুষ বসবাস করে। এর মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই অর্থ্যাৎ পাঁচ ভাগের চার ভাগ মানুষই তোমার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। তুমি আছ বলে শিকার করে। এদেরকে মানুষ বলে আস্তিক।আর কম সংখ্যক মানুষ অর্থ্যাৎপাঁচ ভাগের একভাগ মানুষ  যারা  তোমার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, বা তুমি বলতে কিছু নাই বলে শিকার করে। এদেরকে মানুষ বলে নাস্তিক।দুদলেই আছে শিক্ষিত অশিক্ষিত মুর্খ জ্ঞাণিগুনি কবি সাহিত্যিক দার্শণিক বিজ্ঞানী।হে প্রভূ কাদের কথা সত্য? এবং কাদের কথা মিথ্যা? আমরা গড়পড়তা মানুষ কাদের কথা বিশ্বাস করবো? কিচ্ছুই বুঝতে পারছিনা ।?

হে প্রভূ তুমিই এই সবের সদুত্তর দিতে পারবে কিনা আমি জানিনা।তুমি আমার চিন্তা চেতনা বিবেক বোধ এবং কৌতুহলের বাহিরে নয় বরঞ্চ মধ্যেই আছ। মধ্যখানেই তো আমার জন্ম।আমার জন্মের শত শত বছর পুর্বে মানুষ তোমকে আবিষ্কার করেছে।কত কত নামে তোমাকে ডাকতেছে।আমি তো মধ্যরাতে এসে লোকমুখে শুনেছি তোমর নাম।কেউ বলে মানুষ তোমাকে জন্ম দিয়েছে, আবার কেউ বলে মানুষকে তুমি জন্ম দিয়েছ। যে যেমনি বলেছে তেমনি শুনেছি বা মেনে নিয়েছি।  আমি কিছুই জানিনা আমি জানি শুধু সত্যের সংজ্ঞা হয়-- শুধু এক, আর মিথ্যার সংজ্ঞা হয় অধিক!কিন্তু একটা কথা সুস্পষ্ট করে বলে রাখি আস্তিক নাস্তিক কাহারো কাছে কোন সুনির্দিষ্ট তত্তপ্রমানাধি নাই তোমার সৃষ্টিও রহস্যের।
কেউ বলে মানুষের চিন্তা চেতনা বোধ কল্পনা ও কৌতুহলেই হয়েছে তোমার সৃষ্টি।তুমি যদি সত্যিকারার্থে নাও থেকে থাক, তবু ও মানুষের বোধ কৌতুহল ও কল্পনায় বেঁচে থাকবে নিরন্তর।তোমাকে গিরেই মানুষের ধর্ম দর্শণ জ্ঞান বিজ্ঞান ও ইহিতাসের সীমারেখা।কাব্যে কবিতায় ছন্দে গানে অনুরাগে আবেগে ভারতবর্ষের মানুষ তোমাকে কত কত নামে ডাকে।তুমি নাকি মহান প্রভূ,ঈশ্বর, ভগবান,জগতস্রষ্টা,জগত স্বামী,প্রাণেশ্বর,যোগীশ্বর ওঁ অদিপতি ইত্যাদি।আমি জানিনা প্রভূ তা কতটুকু সত্য?
হে প্রভূ হিন্দুত্ববাদীরা বলে বেড়ায় তুমি স্বয়ম্ভূ।অর্থ্যাৎ তুমি নিজে নিজে জন্ম নিয়েছ।তাও কি সম্ভোব?পিতামাতা ব্যতীত প্রজনন প্রক্রিয়া ছাড়া কি কেউ জন্ম নিতে পারে?হিন্দুবাদীরা একমুখে বলে ভগবান বিষ্ণু জলের উপর একটি সোনার ডিম নিক্ষেপ করলে সেই ডিম থেকে ভগবান ব্রম্ম্যা স্বয়ং বের হয়ে আসে।এটা কি ভাবে সম্ভব?সোনার একটা ভারী ডিম তো পানিতে ডুবে যাওয়ার কথা। আমরা জানি কেবল পঁচা ডিমই পানিতে ভাসে।
ব্রম্মা হলো হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ভগবান।ব্রম্মার অর্থ হলো অব্যয়,অব্যক্ত, চিরন্তন, সর্ব সৃষ্টিকর্তা,সর্বব্যপক, স্বয়ম্ভূ।তিনি অদৃশ্য, আদি ওঅন্তহীন, তিনি কালের ও সীমাহীন অতীত।ত্রিমুর্ত্তির প্রধান অংশ, এবং তিনি বিষ্ণুর সৃষ্ট ডিম্ব হতে উৎপন্ন।
এখন প্রশ্ন আসে বিষ্ণু কে?বিষ্ণু হলেন নারায়ন কৃষ্ণ।তিনি আবার ত্রিমুর্ত্তির এক অংশ ও সৃষ্টিপালক।তার পিতার নাম কশ্যপ, মাতার নাম অদিতী। আর তার দু-স্ত্রি লক্ষী ওস্বরস্বতী।তিনি প্রলয় সমুদ্রে ভাসমান অবস্হায় নারায়নরুপে শিষ নাগের উপর শায়িত ছিলেন।তার নাভিপদ্ম থেকে সৃষ্টিকর্তা ব্রম্মের উৎপত্তি হয়।ইনি দশবার আবতার রুপে পৃথিবীতে আসবেন--ইতিমধ্যে নয়বার এসে গেছেন।শুধু কঙ্কিত আবতার আসার এখনো বাঁকি।

এখানে প্রশ্ন হলো কেন এই দ্বিচারিতা? একবার বলা হলো বিষ্ণুর নিক্ষেপ করা স্বর্ন ডিম্ব থেকে ব্রম্মার জন্ম, আবার বলা হলো বিষ্ণুর নাভীপদ্ম থেকে ব্রম্মার জন্ম। এটা তো হয়ে গেল দ্বিমুখি।মুলত হিন্দু ধর্মে ব্রম্মা, বিষ্ণু , ও মহেশ্বরকে নিয়ে ত্রিমুর্ত্তির কথা বলা হয়েছে।তারা হলেন সৃষ্টিকর্তা, রক্ষাকর্তা, ও ধ্বংশকর্তা।
আবার কৃষ্ণকেও তারা ভগবান হিসেবেই মনে করেন।কৃষ্ণ শব্দের অর্থ হলো সর্ব আকর্ষনীয়।তিনি সকলকে আকর্ষন অভিভূত ও বশ করতে পারেন।হিন্দুবাদীরা বিশ্বাস করেন ঈশ্বর জ্ঞান সৌন্দর্য, শক্তি,যশ  ও সম্পদের আধার।তিনি সকলের মাঝে এবং সর্বস্হানে বিরাজমান।তিনি শুধু মানুষের পিতা নন, তিনি বিশ্বের সবকিছুর পিতা।
হে প্রভূ! তুমি নিশ্চয় জানো বোড্ডিষ্টরা তোমার অস্তিত্বে এবং তোমাকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করেনা।তারা আবার পূর্নজনমে বিশ্বাস করে।কিন্তু এও বিশ্বাস করে পুর্নজনম মানুষের আকারে নাও হতে পারে। প্রত্যেক মানুষের কর্মফল অনুযায়ি পৃথিবীর অন্যান্য জীবজন্তুর আকারেও হতে পারে।
হে প্রভূ! ইসলাম ধর্মবাদী তথা মুসলিমরা তোমাকে আল্লাহ নামে ডাকে।তারা বিশ্বাস করে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ বা উপাস্য নাই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তার কোন অংশিদার নেই। তিনি আহাদ, তিনি আউয়াল, তিনি আখের তিনি জাহের ও বাতেন,তিনি খালিক তিনি মালিক, তিনি রহিম রহমান, তিনি আলঅযু ও মুসুব্বির, তিনি গাফ্ফার,ও হাদী।এগুলি ছাড়াও আরো নিরানব্বইটি নাম আছে তোমার।
হে প্রভূ! আবার পুরানো আর্য সম্প্রদায় আরো কতো কতো নামে ডাকতো তোমায়। যেমন--গ্রীকরা ডাকতো জিউস নামে, রোমানরা ডাকতো জুপিটার নামে,হিন্দুরা ডাকতো দেবরাজ নামে। পেরুর ইনকারা ডাকতোপাকহকিমিকি নামে মেক্সিকানরা ডাকতো তোলাকু লাহুয়াকু তেজকাৎ লিপোকা নামে, পলেনেশীয়ারা ডাকতো টাঙ্গাপেয়া নামেপশ্চিম আফ্রিকানরা ডাকতো নিয়োমোই নামে, আবার ইংরেজরা ডাকে গড নামে।আরো কতো শত নামে মানব জাতি তোমাকে ডাকে।জানিনা তোমার নিত্যসত্য নাম কোনটি?
হে জগত প্রভূ!মানুষ এক মুখে বলে তোমার কোন রুপ নেই, তুমি নিরাকার, অদৃশ্য। আবার মানুষের বলে তুমি নাকি সাকার। তোমার নাকি মানুষের মত আকার আছে।মানুষের মত তোমার নাকি হাত পাঁ কান সবি আছে।তোমার নাকি বসার জন্য সিংহাসন আছে, রাজ্য আছে। তোমার নাকি মন্ত্রি পরিষদ আছে। সেনাধ্যক্ষ আছে, পদাতিক কর্মচারি আছে এবং এরাও নাকি উড়ে চলে কথা বলে, লেখাপড়া হিসেব নিকেস করে।আমি জানিনা সত্য কি-না--?
  • বাইবেলের পুরান নিয়েমে বলা হয়েছে প্রেরিত পুরুষরা তোমাকে নাকি দেখেছেও--
  • মোসেস নাকি তোমার পিট দেখেছে?,
  • য্যাকোব নাকি স্বপ্নে দেখেছে পৃথিবী থেকে একটি সিঁড়ি স্বর্গের দিকে উঠে গেছে আর সিঁড়ির উপর তুমি দাঁড়িয়ে আছ আপন মহিমায়।
  • মিখাইয়া দেখেছে তুমি নাকি সিংহাসনে বসে আছ, আর তোমার ডানবামে সাঙ্গপাঙ্গরা দাঁড়িয়ে আছে।
  • ঈশাইয়া দেখেছে তুমি রাজকীয়ভাবে চ্যয়ারে বসে আছ,
  • য়িহিস্কেল মানুষের আকৃতিতে বসে থাকতে তোমাকে দেখেছে।


হে জগত প্রভূ! কিছু কায়েমী সার্থবাদী আর ধর্ম ব্যবসায়িরা তোমাকে জন্ম দিয়েছে। একথা দিবালোকের মত সুস্পষ্ট।তুমি মানুষকে জন্ম দাওনি। ভন্ড মানুষেরা তাদের নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে তোমাকে জন্ম দিয়েছে।যুগে যুগে তারা তোমার কত কত নাম দিয়েছে।একবার বলে তুমি সাকার আবার বলে তুমি সাকার।আবার বলে তুমি পুরুষের মত আকার বিশিষ্ট ব্যক্তি।আবার বলে তুমি কোন নারীর স্বামী নন। তোমার কোন প্রজনন ক্ষমতা নাই।তোমার কোন সন্তানাদি নাই, তুমি কোরো পিতাও নন।তুমি শুধু ‍ুক মানুষের সার্থসিদ্ধীর জন্য তৈরি এক অদৃশ্য নাম সুচক জীব? তুমি মানুষের বানানো কল্পনার সন্তান।
হে প্রভূ! আমার ধারণা যারা বলে এই পৃথিবী তুমি সৃষ্টি করেছ তারা বড় গন্ড মুর্খ, অজ্ঞ এবং নেশাখোর।বেকন দেকার্তের ডারউনের মত মহামানবরা যুক্তি দিয়ে বুঝায়েছেন, সৃষ্টিতত্বে তোমার কোন হাত নাই।তবুও মানুষ বুঝতে পারছেনা তাদের ভূল।
হে প্রভূ! তোমাকে মানুষ বলে সর্বশক্তিমান,প্রকৃত অর্থে তোমার তো কোন শক্তি নাই।তুমি কারো কাছে পাথর আবার কারো দৃষ্টিতে শুধুই শূন্য।তোমার দেওয়ার ওপাওয়ার কিছুই নেই।এই পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তা কাকতালিয় ভাবেই ঘটে। আর ধর্মব্যবসায়িরা ঈশ্বরের দান বলে সাধারণ মানুষকে ঠকায়, ধোকা দেয়।
হে প্রভূ! আজ তোমাকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে মন্দিরের পুরোহিত চার্চের পাদ্রি আর ব্যবসায়ি মোল্লারা।শুধুই তাদের ধান্ধার কারণে।তোমার নাম ব্যবহার করে মানুষ কি না করেছে? কুঠি কুঠি টাকা খরছ করে মন্দির গির্জা পাকোডা, সিনাগোগি মসজিদ বানিয়েছে। কেউ চার্চ ভেঙে মসজিদ বানিয়েছে, কেউ মন্দির ভেংে মসজিদ, কেউ আবার মসজিদ ভেঙে মন্দির বানিয়েছে।তোমার নাম ভাঙিয়ে ক্রুসেড করে রক্তে ভিজিয়েছে এ পৃথিবীর শ্যামল মাটি।হত্যা হয়েছে লক্ষকুঠি নরনারি শিশু বৃদ্ধবৃদ্ধা।তোমার নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ হয়েছে বাদশাহ নামদার, জবরদস্তি রাজ্য করেছে বিস্তার।ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগনের উপর করেছে জুলম অত্যাচার।নিরীহ ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে শাস্তি আর অপরাধিরা পেয়েছে মুক্তি।বোধ হয় মানুষ যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন স্রষ্টা তোমার মৃর্ত্যু নাই।মৃর্ত্যু হলেও মানুষ তোমাকে বার বার জন্ম দিবে।মানুষের অসিম কল্পনার ক্ষমতাতেই তোমার জন্ম হবে। আমি নিশ্চত বৈ-কি?

২, হে মহান প্রভূ তুমি আকার না সাকার--?
হে প্রভূ! ধর্ম বিশ্বাসীরা প্রায় সবাই বলে তুমি নিরাকার,তুমি সর্বশক্তিমান, তুমি সর্বব্যপী, তুমি দয়াময় তুমি রিজিক দাতা।তুমি সবি দেখ শুনো। তোমার ইশারা ব্যতীত গাছের পাতা পর্যন্ত নড়েনা।  হিন্দু ধর্ম বিশ্বাসীরা বলে তুমি নাকি মাঝে মধ্যে সাকার হয়ে রাম কৃষ্ণদের মত  রুপ ধারণ করিয়া আবতার রুপে পৃথিবীতে আস।কিছুদিন থাকো লীলা তামাসা করে আবার ফিরে যাও তোমার আপনার ঠিকানায়।
ইহুদী খৃষ্টানরা বলে তুমি ইশ্বর মশীহ এবং পরমআত্মা। এই তিন রুপে প্রাকাশ পেয়ে ধরণীতে আস।আবার মুসলিমরা বলে তুমি নিরাকার এক অদ্বিতীয় সত্বা। লা শরিক মাবুদ আল্লাহ। তুমি আরশ কুরছিতে বসিয়া নাকি কয়েক জন ফেরেশতার মাধ্যমে বিশ্ব পরিচালনা করিতেছ।কেনই বা তুমি সাকার রুপ ধারণ কর?কেনই বা ত্রিরুপে প্রকাশিত হও?তুমি যদি নিরাকার হয়ে থাকো, তো কিভাবে আকার ধারণ করে পৃথিবীতে আসো?তুমি যদি সর্বশক্তিবান হয়ে থাকো কেন গুটি কয়জন ফেরেশতার সাহয্য তোমার প্রয়োজন হয়?তুমি যদি সর্বব্যাপি হয়ে থাকো এই আসা যাওয়ার কারণ কি?তুমি যদি দয়াময় হয়ে থাকো তোমার সৃষ্ট সমাজে এত নির্দয় কেন?কেন মানুষ মানুষকে এমন নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করে?কেন জীব জীবকে নির্মম ভাবে হত্যা করে?কেন একে অপরকে ভক্ষন করে?তুমি মুদ্রার এপিট ওপিট হও কেমন করে? তুমি কারো জন্য দয়াবান,আবার কারো জন্য ন্যয়বান। এই দৈত নীতি কেন তোমার? তুমি যদি রিজিক দাতা হয়ে থাকো তোমার সৃষ্ট জীব কেন একে অপরকে ভক্ষন করে বেঁচে থাকে?আবার তোমার সৃষ্ট অসংখ্য জীব কেন না খেয়ে মরে?
হে প্রভূ!বকধার্মিকরা বলে তুমি নাকি সবি দেখ এবং শুনো।তাহলে কি মানুষের মত তোমারও হাত-পাঁ নাক মুখ কান চক্ষু আছে?তাহলে কি তোমারও মানুষের মত মন মানসিক আছে? অনুভূতি অনুভব ব্যথা ব্যদনা দুঃখ কষ্ট আছে?জীবের অন্যায় আচরণ দেখিলে তুমি কি গোস্ব্যা করো? তুমি কি পাপিদের ঘৃণা করো?তুমি কি অন্যায় কাজের জন্য অভিশাপ কিংবা আশির্বাদ করে থাকো?বিশ্বাসীরা যে ভাবে বলে,তাতে মনে হয় তুমি এযুগের স্বৈরচারের চেয়েও জগন্য কায়দায় বিশ্বটাকে শাসন শোষন করছো।তাই নয়কি প্রভূ?
হে প্রভূ! তুমি যদি সর্বব্যপি হয়ে থাকো, তাহলে তো জলে স্হলে আকাশে বাতাসে শূন্যে মহাশূন্যে,অনু পরমাণুতে, পাক নাপাক, ময়লা আবর্জনা কিংবা পরিচ্ছন্নতায় সকল স্হানে সকল পদার্থে তুমি বিরাজমান,তা কি সত্য?
তোমার ইশারায় যদি গাছের পাতা না নড়ে থাকে?তাহলে কি আজ বিশ্বের ৫৪টি দেশে যে যুদ্ধ গৃহযুদ্ধ চলছে, সেটা কি তোমার ইশারায় চলছে?ইরাক সিরিয়া ইয়েমন সুমালিয়া আফগানিস্তানে যে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ হত্যা হচ্ছে, নারী শিশু বুড়ো, সেটাও কি তোমার ইশারায় হচ্ছে?প্রতিদিন রোগে শোকে সারা বিশ্বে যে  অগনিত মানুষ মরছে, সেটাও কি তোমার ইশারায়?হিরোশিমা নাগাসাকিতে যে মনুষ্য সৃষ্টি ভয়ঙ্কর এটম বোমা বিস্ফোরিত হলো, সেটাও কি তোমার ইশারায় হলো? বলো প্রভূ বলো?
হে প্রভূ! বৌদ্ধ ধর্মবিশ্বাসিরা বলে জীব হত্যা মহাপাপ,অতচ ঐ দেখ মায়ানমারে সেই বৌদ্ধরাই কি নির্মম ভাবে রোহিঙা জাতিকে নিধন করছে, তুমি কি দেখছ না?না তোমার যোগ সাজসে  হচ্ছে এই সব হত্যাকান্ড?আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা, প্রভূ তুমি বলো ?

৩, হে মহান প্রভূ! তোমার জন্ম হলো কি ভাবে--?

মুসলীম বিশ্বাসীরা বলে, তোমাকে কেউ জন্ম দেননি।তুমি নিজে নিজেই জন্ম নিয়েছ তোমার আপন মহিমায়।হিন্দু ধর্মবিশ্বাসীরা বলে তুমি ঘোর অন্ধকারে একটি আত্মার সত্বা থেকে ব্রম্ম্যা নামে জন্ম নিয়ে একটি অন্ড সৃষ্টি করে সেই অন্ড থেকে এই বিশ্ব চরাচর সৃষ্টি করিয়াছ।গ্রীক পৌরাণিক কাহিনীতে বলে আদিতে ঘোর অন্ধকার থেকে ক্যায়োস দেবতা নামে তোমার জন্ম হয়। পরে তুমি ইউরোনোম নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দাও,এই কথা সত্য কিনা প্রভূ?

৪, হে ইশ্বর! তোমার কি কোন মা-বাবা আছে--?

মুসলিমরা বলে থাকে তোমার কোন মা-বাবা নেই। তোমাকে কেউ জন্ম দেয়নি, আর তুমিও কাউকে জন্ম দাওনি।তবু খ্রিষ্টান ধর্ম বিশ্বাসীরা বলে যিষু খ্রিষ্ট নাকি ইশ্বর তোমার  পুত্র। এই বাক্য সত্য কি-না?

হে ইশ্বর! তুমি দেখতে কেমন--?

মশীহ মুসার সাথে তুমি নাকি নুরের আলো হয়ে দেখা দিয়েছ, দীর্ঘক্ষন কথা বলেছ।সেটা কি ভাবে?আলোক রশ্মি কি কথা বলতে পারে? আলো তো পদার্থ।মুসলমাদের আখেরী নবী মোহাম্মদ (সঃ) ও নাকি বোরাক নামক দুলদুল ঘোড়াতে চড়ে সাত আসমানের উপরে মেরাজে গিয়ে তোমার সাথে দেখা সাখ্যাত করে কথা বলেছে।এটা কি করে সম্ভোব প্রভূ?আধুনিক বিজ্ঞান বলে ১২০ মাইল উপর দিয়ে প্লেন চালানো যায়না।অক্সিজেনের অভাবে সেখানে নাকি প্রাণীকুল বাঁচতে পারে না। অন্যান্য ধর্মাবলীতেও বলে থাকে দেবতারা নাকি এক রকম রথে চড়ে তোমার সাথে দেখা করেছে বহুবার।এটা কি বাস্তব সত্য না জগন্য মিথ্যা?

হে ইশ্বর তুমি কি মানুষের মত কথাবার্তা বলতে পারো?

যারা বলে বলে মুখে ফেনা তোলে  তুমি নিরাকার লা-শরিখ মাবুদ আল্লাহ। যারা সদা ঝপ করে করে বলে তুমি পরম আত্মা। যারা বলে তোমার হাত পাঁ মুখ চোখ কান কিছুই নাই।তারাই আবার প্রতি বাক্যে বলে থাকে তুমি নাকি সবকিছু দেখ শূনো ইত্যাদি।এটা কি করে সম্ভোব প্রভূ তুমিই সত্যটা বলো?

হে ইশ্বর !তুমি কি মানুষের মত লেখাপড়া করতে পারো?

মুসলিমরা বলে আল্ কোরআন সহ তুমি একশত চারখান আসমানী কিতাব নাযিল করিয়াছ। তন্মধ্যে চারখানা কিতাবকে নাকি প্রধান ঘোষনা করেছ।তাহলে বাঁকি একশ খানা কিতাব কি বাতিল ঘোষনা করেছ।আর না করিলে থাকিলে সেগুলো এখন কোথায়।ধর্মবিশ্বাসিরা সে গুলো কেন এখন প্রচার করে না?তুমিই এটার সদুত্তর দিতে পার প্রভূ। সে কিতাব গুলি কি তুমি নিজে লিখেছ? না অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়েছ?কেউ কেউ বলে তুমি ওহীর মারফতে অর্থ্যাৎ জিবরাইল নামক একজন ফেরেশতার মারফতে পাঠায়েছ।একথা সত্য কিনা?

হে ইশ্বর! তুমি কি নগ্ন থাকো না মানুষের মত কাপড় চোপড় পরো--?

ধর্ম বিশ্বাসীরা সবাই ভিন্ন ভিন্ন তোমার বর্ণনা দিয়ে থাকে।কেউ বলে তুমি নিরাকার কেউ বলে তুমি সাকার।তাই প্রশ্ন করলাম প্রভূ! গোস্তাকি ক্ষমা করে দিও?

হে ইশ্বর! তুমি কোথায় বসবাস করো--?

মুসলমানরা বলে তুমি নাকি সাত আসমানের উপর আরশ কুরছিতে অনাদী কাল ধরে বসে আছো?কিম্বা বসবাস করছো। জানিনা কতটুকু সত্য?

হে ইশ্বর! তুমি কি কি জিনিস খেয়ে বেঁচে থাকো বা বেঁচে আছো---? 

মুসলমানরা বলে তুমি আহার নিদ্রা কিছুই করো না সত্য কিনা?

ইশ্বর তোমারও কি তোমার সৃষ্ট জীবের মত রোগ শোক হয়---?

হে ইশ্বর!তুমি জগত সৃষ্টি করিয়াছ কিভাবে ? 

হে প্রভূ !তুমি কেন এত সুন্দর করে এই জগত সৃষ্টি করিয়াছ-?

হে প্রভূ! তুমি মানুষ সৃষ্টি করিয়াছ কিভাবে?

হে প্রভূ তুমি মানুষ সৃষ্টি করিয়াছ কেন?

হে প্রভূ! তুমি মানুষ সৃষ্টি করিয়াছ,আবার সে মানুষের নিয়তিতে কেন জন্ম মৃর্ত্যু লিখে দিয়েছ?

হে প্রভূ! তুমি মানুষের ভিতরে প্রাণ বা আত্মা রুহ কিভাবে দিয়েছ?

                                                                                                  ---------চলবে

এক ইশ্বর হাজার প্রশ্ন?২-কুসংস্কার






 

 কুসংস্কার-ইংরেজিতে বলে(Superstion)অযৌক্তিক ব্যখ্যাবিহীন বধঅভ্যাস ও অন্ধ বিশ্বাসই হলো কুসংস্কার।  কুসংস্কার দুরকমের-যেমন প্রচলিত প্রথা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের কুসংস্কার।কুসংস্কারকে আবার সংস্কারও বলা যায়।একপক্ষের কাছে মনে হয় এটা সঠিক ও এই রকম।অন্য পক্ষের কাছে মনে হয় এটা ঠিক অন্য রকম হবে।মুলতঃকুসংস্কারের উপর  অন্ধ বিশ্বাসে ভর করেই দাঁড়িয়ে আছে আমাদের এই বিশ্বটা।যাদুটোনা ভূতপ্রেত অজানা ভয়ের আসংখ্যা অযৌক্তিক কথাবার্তা এবং কর্মকান্ড সবি হলো কুসংস্কার।যার কোন সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানীক ব্যখ্যা ওপ্রমাণাধি নাই।

তন্মধ্যে ধর্মীয় কুসংস্কার  হলো অত্যান্ত ভয়ঙ্কর ও নির্মম।সাধারণ মুল ধর্মের রিতীনীতি বহির্ভূত এক্সটা উপাসনা এবাদদ বন্দেগী তাবিজ তুমার ঝাড়ফুঁক পুজা মন্ত্র পাঠ গির্জা মন্দিরে ধুপ জালানো এসবি কুসংস্কারের আওতায় পড়ে।

এখানে সত্য কোনটা আর মিথ্যা কোনটা এই জিনিসটি নির্নয় বা সনাক্ত করতেই হয়ে যাচ্ছে মানুষের ভয়ঙ্কর সর্বনাশ।এই কারণেই মানুষের  মধ্যে এত কলহ বিরহ বিচ্ছেদ বিবাধ বিশ্বাদ দাঙ্গা হাঙ্গামা যুদ্ধ গৃহ যুদ্ধ, এত খুন এত লাশ এত রক্ত প্রবাহ।মানব জাতির সৃষ্টির শুরু থেকেই শুরু হয়েছিল এই  যত সব কুসংস্কার আর অন্ধ বিশ্বাস। সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রকৃতিক দু্র্জোগের কারণে যত মানুষ প্রাণ হারায়েছে তার চেয়ে শত শত গুন  বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এই কুসংস্কারের কারণে।জাতি সংঘের রিপোর্ট অনুযায়ি এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আজ বিশ্বের ৫৪টি দেশে যুদ্ধ গৃহ যুদ্ধ চলছে।বলা যায় মহাযুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধ।প্রতিদিন শত শহস্র মানুষ হতাহত হচ্ছে এই কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাসের কারণে।

কুসংস্কার দুরকমের।একটা হলো মানুষের স্বভাবগত,আরেকটা হলো ধর্মগত।দুটাই মানুষের কল্পিত।এটা কোন ভাবেই ইশ্বর প্রদত্ব হতে প্রমাণিত হয় না।দুটাই ভয়ঙ্কর, তবে ধর্মের কুসংস্কারটা একটু বেশি ভয়ঙ্কর।