Dienstag, 1. Mai 2018

এক ইশ্বর হাজার প্রশ্ন?ধর্ম দর্শন বিজ্ঞান ও ইতিহাস,৪



ধর্ম  দর্শণ বিজ্ঞান ও ইতিহাস এই চারটি বিষয়ই  মানব জীবনের অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন বিষয়। এই চারটি বিষয় নিয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে এবং বেশি তর্ক বিতর্ক করে থাকে।বিজ্ঞান বাদ দিয়ে বাঁকি তিনটা বস্তুই হলো যত অঘটনের মূল কারণ।অনেকটা চোরাবালি খেলার মত।ভাঙেগড়ে চিন্তা করে গবেষনা করে।মানুষের এই চিন্তা চেতনাকে দুভাগে ভাগ করা হয়।ভাববাদী ও বস্তুবাদী।এখন প্রশ্ন হলো ভাব প্রধান না বস্তু প্রধান?

প্রখ্যাত জার্মান দার্শণিক হেগেল বিশ্বাস করতেন ভাববাদে। কার্লমাক্স আবার বিশ্বাস করতেন বস্তুবাদে।মহামতি কার্লমাক্স এই বস্তুবাদে পুরো বিশ্বকে একবার নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছেন।এখনও তার মতবাদ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি।আর ভাববাদীরা তো অনাদী কাল থেকে পৃথিবীকে নেড়ে এবং নিয়ন্ত্রন করে যাচ্ছেন।ধন্ধ দুটোতেই গোড়া থেকেই লেগে আছে।সে যাই হউক, এখন ব্যপারটা  এরকম দাঁড়ায়, ঘোঁড়া আগে না গাঁড়ি আগে?কি উত্তরটা এবার সহজ হয়ে গেল না সুধী?

বিষয়টা আরো সহজ ভাবে বলা যায়, ভাব-টা হলো অনুমানও প্রতিভাস মাত্র। আর বস্তুটা হলো দৃশ্যমান কোন কিছু।মাক্স বস্তুবাদের একটি বৈজ্ঞানীক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন।আর ভাববাদের কোন বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা আজ পর্যন্ত কোন ভাববাদীরা দিতে পারেন নাই। সবকিছুই আনুমানিক নির্ভর ও কল্পনাপ্রসূত মাত্র।

দৃশ্যমান বস্তুর সাথে হয় মানুষের গভির ভালোবাসা, আর অদৃশ্য বস্তুর সাথে হয় মানুষের অনন্ত প্রেম।প্রেমকে মানুষ বলে আত্মার সম্পর্ক, সুতরাং দৃশ্যমান বস্তুর সাথেও মানুষের প্রেম হতে পারে।এক কথায় যে কোন প্রিয় বস্তুর সাথেই প্রেম হতে পারে।ইশ্বরের সাথে প্রেম হলো পরম আত্মার প্রেম।কিন্তু প্লেটনিক প্রেম বা পরক্রিয়া প্রেমকে কি বলবে সূধী?

মিলন সবার একি মোহনায়। ভাব দর্শণ বিজ্ঞান এবং ইতিহাস সবগুলিই বস্তু থেকেই উদ্ভব হয়।ভাববাদীরা একেক জন একেক রকম ব্যখ্যা দিয়েছেন।ইশ্বর দেবতা জ্বীন ভূত পেত্নি পরি ফেরেশতা সর্ঘ নড়ক সবি ভাববাদীদেরই আবিষ্কার বা সৃষ্টি।অবিশ্বাস যোগ্য হলেও এটাই চরম সত্য যুগে যুগে মানুষ এগুলিতেই বিশ্বাস করেছে, এবং আজো করে যাচ্ছে। অবিশ্বাসকে বিশ্বাস করা এবং অখাদ্যকে হালাল করে খাওয়া মানুষের বদ অভ্যাস গুলির মধ্যে অন্যতম একটি।অবশ্য কেউ কেউ অন্তরে বিশ্বাস না করলেও বিশ্বাস করার বান করে যাচ্ছে। এই বিশ্বাসীরা ইশ্বরকে একবার বানায় নিরাকার আবার বানায় সাকার।একবার বানায় স্বয়ম্ভর আবার বানায় দিগম্ভর।তাহলে জ্বীন পরি ভূত পেত্নি ফেরেশতারাও কি ইশ্বর সমতুল্য? তারাও তো নিরাকার, তাদেরকেও তো খালি চোখে কিংবা সচরাচর দেখা যায় না।আলেমরা বলে জিব্রাইল (আঃ)এর নাকি ৬শত পাখা আছে,তার মধ্যে মাত্র একটি পাখা আমাদের এই পৃথিবীর ভার বহিতে সক্ষম।তা কি সত্যি সূধী?

ধর্ম-টা হলো ভাববাদের অমৃত ফসল।প্রবিত্র ধর্ম গ্রণ্হ গুলির দুএকটি বাক্য আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে উল্যেখ করার মত হলেও তা চুড়ান্ত প্রমান সাপেক্ষ নয়।কোন ভাবেই নয়।এখানে একটি উদারন দিলেই বুঝবে সুধী।ধর্ম গ্রণ্হগুলিতে রথ পঙ্খীরাজ পাখি এবং দুলদুল ঘোড়ার কথা বলা হয়েছে। যুগে যুগে নবী আবতার আর দেবতারা উক্ত তিনটি যানবাহন ব্যবহার করে(আধুনিক বিমান বা রকেট সাদৃশ্য)অদৃশ্য ইশ্বরের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন।বিজ্ঞান বলে ১২০ মাইলের উপরে  বিমান চালানো মোটেই সম্ভোব নয়।যাত্রিরা সাথে সাথে প্রাণ হারাবে।রকেট যাওয়া সম্ভোব হলে তা স্পেশাল পদ্ধত্তিতে।তাহলে দেবতারা প্রাণী নিয়ে উড়ে উড়ে খোলামেলা সাত আসমান বেদ করে সেখানে গেলেন কিভাবে?অন্ধ ধর্ম বিশ্বসীরা বলে থাকে অলৌকিক ভাবে?অলৌকিক বলতে কিছু নেই।যা ঘটে তা প্রকৃতি ও পারমণবিক ভাবে।তাই নয়কি সুধী?

ধর্ম দর্শণ বিজ্ঞান ও ইতিহাস, চারটি জিনিসই মৌলিক প্রশ্ন?এর মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে মতবেদ থাকলেও বাঁকি তিনটি বস্তু নিয়ে অর্থ্যাৎ ধর্ম দর্শণ ও ইতিহাসকে নিয়েই মানুষের মাঝে যত অঘটন ঘটেছে, যত বিবেধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।যত যুদ্ধ গৃহযুদ্ধ বেঁধেছে।এই তিনটি বস্তুই মানুষের ইস্টের চেয়েও অনিস্ট সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়েছে। তিনটি বস্তুই পারমাণবিক বোমার চেয়েও জগন্য ও ভয়ঙ্কর বস্তু।এব্যপারে সবসময় বিজ্ঞানীরা পিট বাঁচাবার জন্য রহস্য জনক ভাবে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে থাকে।তারা নিজের প্রতিষ্টিত সত্যকে ভেঙে বস্তুনিষ্ট সত্যকে প্রতিষ্টা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিশ্ব ভ্রম্মান্ডের সৃষ্টিতত্বে তাদের একটা ব্যখ্যা থাকলেও ইশ্বরতত্বে তাদের সুনির্দিষ্ট কোন ব্যখ্যা নাই।বরঞ্চ ইশ্বর আছে কি-বা নাই এই প্রশ্নে তারা দৈতমত পোষন করেন এবং দ্বিধাদন্দে ভিবক্ত থাকেন।

ধার্মীক, দার্শণিক, ইতিসবেত্তা ও বিজ্ঞানীরা এক জায়গায় এসে সহমত ব্যক্ত করেন বা এক হন। আর সেটা হলো মানবতাবাদ।আমি ব্যক্তিগত ভাবে বর্তমান যুগটাকে  আধুণিক বর্বর যুগ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি।সুধী কি সত্যিই ধরে নিতে পারবে বর্তমান যুগটা হলো মানবতাবাদী যুগ? কোথায় কোন দেশে পৃথিবীর কোন কোণে মানবতা বিরাজমান?

গনতন্ত্র সমাজতন্ত্র ইশ্বরতন্ত্র রাজতন্ত্র পৃথিবীতে যত তন্ত্রমন্ত্র আছে সবি ধর্মবিশ্বাসীও ও দার্শণিকদের কারসাজি। ইতিহাসবেত্তা হাদীছবেত্তারা এসে তাতে রঙ লাগিয়ে বিষাধময় করে তুলেছে যখন সমগ্র বিশ্বকে। ঠিক তখন একেবারেই ভিন্নমতবাদ নিয়ে আবির্ভূত হলেন( ১৮০৯-১৮৮২) চার্লস ডারউইন। না বৈজ্ঞানিক না ধার্মিক না দার্শণিক, তিনি বিবর্তন বাদের থিউরি আবিষ্কার করে  ( Origin of Speices  ) নামে একটি  বই লিখে ভাব বস্তু ও দর্শনকে মিক্সার বানিয়ে খাওয়ালেন সমগ্র মানব জাতিকে।বিজ্ঞান তাকিয়ে রয় অবাক বিশ্ময়ে।কুঠারের নিষ্ঠুর আঘাত পড়ে আদি যুগের ধর্মবাদী দর্শনবাদী ইতিহাসবেত্তা ও হাদীছবেত্তাদের মাথায়।ধর্মগুরু দার্শণিক এবং বিজ্ঞানীরা রিতিমত বিব্রতবোধ করেন এই মতবাদে।তাদের চিন্তা শক্তির ক্রোশ ক্রোশ মাইল দুরে ছিল ডারউইনের এই যুগান্তরি মতবাদ।এই যুগকে কোন যুগ বলবে সুধী?অবশ্য কেউ কেউ বলে থাকে নবযুগ।

ধর্ম-টা কি--?আসলে আমরা মানব জাতির আদি ইতিহাস ও সৃষ্টিতত্বের ইতিহাস পর্যালচনা করলে দেখতে পাই যে ধর্মটা দুই প্রকারের।একটা হলো স্বভাব ধর্ম, আরেকটা হলো কল্পিত ধর্ম। স্বভাব ধর্ম জীব ও উদ্ভিদ জগতে সৃষ্টির শুরু থেকেই বিকশিত ও বিদ্যমান।আর কল্পিত ধর্ম মানুষের মাঝে বিদ্যমান হলেও আদিতে বিকশিত হয় নাই।    আদিতে মানুষের মধ্যে মানব জাতির মধ্যে স্বভাব ধর্মের বাহিরে এক্সটা ছিল কিছু নিয়মনীতি প্রথার প্রবণতা। প্রকৃতির দুর্জোগে খরা বন্যা ঝড় তুফান ভূমিকম্প  ইত্যাদি ভয়ের কারণেই এই গুলোর উদ্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সতরশ সতাব্দীর মাঝামাঝি এসে আদিকালের মানুষের সব  প্রথা বিশ্বাস ভাবাবেগকে বলা কহার সার্থেই ধর্মে রুপান্তরিত করা হয়েছে।যেমন আজ মুসলমানরা তাদের ধর্মকে ইসলাম ধর্ম বলে থাকে।শুরুর দিকে ইসলাম ধর্ম বলা হতো না।বলা হতো দ্বীনে ইসলাম।আরবিতে দ্বীন শব্দের অর্থ হলো আইন।তা হলে দাঁড়ায় আইনে ইসলাম বা ইসলামের আইন।ভারতের শিখ ধর্মকে বলা হতো হুকুম। গুরুর হুকুম।এখন বলা হয় ধর্ম।হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মকে ধরা হতো প্রথা বা কার্লচার। এখন বলে ধর্ম।জৈন আজবিক সহ শুধু ভারতেই শতাধিক ঋষি মুনিদের প্রচলিত প্রথা ছিল।সবচেয়ে আশ্চার্যর বিষয় হলো এই সব মুনি ঋষি মেসেঞ্জার বা প্রপিট নবী পয়গম্বররা সবাই ছিলেন আন আলফাবেট বা নিরক্ষার।পেশায় সবাই ছিলেন রাখাল বয়। যেমন ইবরাহিম আঃ ঘোড়া গাধা এবং বকরি চরাতেন।মুসা নবী ছাগলের পাল চরাতেন, আমাদের সবার প্রিয় নবী মোহাম্মদ সাঃ মেষ চরাতেন,যরাথুটস্ত্র ধর্মের প্রবক্তা উঠ চরাতেন,কৃষ্ণ তো ধেনু চরাতেন, আজবিক ধর্মের গোশালের জন্মই হয়েছিল গোশালে।এই সব নিরক্ষর রাখালেরা যুগে যুগে আবতার হয়ে পৃথিবীতে এসেছেন মানব জাতির জন্যে অমৃতের বাণী নিয়ে। প্রবিত্র ধর্মগ্রন্হ গুলি নিয়ে।আমরা যাকে বলি আসমানি গ্রন্হ বা কিতাব।আসমান থেকে আসুক আর জমিন থেকে আসুক সত্যিই প্রতিটি গ্রন্হেই গ্রতিত হয়েছে এক একটি ঐশি বাণী

পৃথিবীর সমস্ত জীব ও উদ্ভিদ সমানভাবে তার স্বভাব ধর্ম পালন করলেও কল্পিত ধর্ম এক মাত্র মানুষেরাই পালন করে থাকে।বিশ্বাসীরা ধর্মকে ইশ্বর প্রদত্ব মনে করলেও এটার ভিতরে ডুকেছে রেওয়াতি ও কুসংস্কার। চরম পর্যায়ে। রেওয়াতি  হলো অমুকে দেখেছে, অমুকের কাছ থেকে শূনেছে,অমুকে বলতে দেখেছে, এই গুলিকে বলে রেওয়াতি ।ধর্মচেতনার মধ্যে জ্ঞানের চেয়ে ধ্যনের সাধনা হয় বেশি।যাকে ইংরেজিতে বলে মেডিটেশন।

দর্শণ-টা কি--?সৃষ্টিতত্বের  উপর ও মানব জাতির মঙ্গলের জন্য  সুদুরপ্রসারি গভীর জ্ঞান প্রজ্ঞার প্রচেষ্টা ও সার্বিক বিষয়ে বোধবুদ্ধি সন্মত পথ পাথেয় দিক নির্দেশনার নামই হলো দর্শণ।ধর্ম ও দর্শণের বিষয়বস্তু প্রায়ই অভিন্ন।দুটোকেই বলা যায় দর্শণ।দুটাতেই কল্পিত  মানবীয় এবং বায়বীয় অপ্সারাদের অনাবৃত অভিসারের ব্যখ্যাও বর্ণনা পাওয়া যায়।কিন্তু মিলন-টা সুদুর পরাহত।

ধর্ম চেতনা এবং দর্শণ চেতনা দুটোই ভয়ঙ্কর ও জগন্য। দুটাই একটা নিরীহ সরলসিদা জাতি গোষ্টির উপর খঞ্জর হাতে হামলিয়ে পড়ে।কেউ আসে ধর্মের লেভাস পরে, আবার কেউ আসে বিপ্লবের লেভাস পরে।দুপক্ষই চায় মানব মুক্তি কিংবা মঙ্গল।অতচ মানুষের হয় ভয়ঙ্কর সর্বনাশ।দেশে দেশে হয় আমকতল।মাটি ভিজে হয় রক্তে লালে লাল।ধার্মিক ও দার্শণিক তারা নিজেরাও নিজেদের উপর ডেকে আনে ভয়ঙ্কর বিপদ।সক্রেটিসকে বাদ্য করা হয় বিষপানে প্রাণ দিতে।তার শিষ্য প্লেটোকেও পালিয়ে বাঁচতে হয়েছে।এরিস্টটলকে দ্বিপান্তরে আত্মগোপনে থেকে মরতে হয়েছে,গ্যালিলিও কে প্রাণ দিতে হয়েছে।িআধ্যাত্বিক কবি মনসুর হাল্লাজিকে টুকরো টুকরো করে হত্যা করেছে সুন্নি মুসলমানরা।  ইমাম বোকারিকে আত্মগোপনে থেকে মরতে হয়েছে।ইমাম হানেপি ইবনে তাহমিয়াকে জেলখানায় নিপিড়নে মরতে হয়েছে। এইতো সেদিন মিশরের স্বৈরচার নাসের বিশিষ্ট ইসলামি কবি সাহিত্যিক সাইয়াদ কুতুবকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে মিশরের স্রৈচার সরকার।এরকম ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত বা উদারণ দেওয়া যাবে।সবকিছু হয়েছে শুধু ধর্মের নামে, ইশ্বরের নামে। যাকে সোজা কথায় বলে নর বলি, আজো হচ্ছে নিরন্তর।

প্রশ্ন জাগে? What nonces Relijon and Pilosopy?What is the democraci and Soceilist?সন্ধান করতে হবে এই সবের শেখড় কোথায়?

ধর্মব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে ইসলামের নবী একটি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন। তা হলো এমন একদিন আসবে সেদিন ইসলাম বলতে কিছুই থাকবেনা।কোরআনের মধ্যে থাকবে শুধু কিছু অক্ষর।আর মসজিদগুলো থাকবে ফাঁকা দালান ঘর।সেখানে কোন প্রকার হেদায়েত ও কল্যাণমুলক দিকনির্দেশনা থাকবেনা।সেদিন আলেম নামধারিরা হবে সবচেয়ে দুষ্ট প্রকৃতির ও সন্ত্রাসী ও বিশৃঙ্খলাকারী।(বোখারী শরিফ)

দার্শণিক আল্ বেরুনির মতে, আরবি ভাষাতে বিজ্ঞানের আলো প্রবেশ করেছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে, যা তাদের অন্তর ভেদ করে উন্নত করেছিল।কিন্তু আরবি ভাষার যাদু ওঅলঙ্করণ প্রবেশ করেছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের রক্তে ও শিরায়।প্রথম অবস্হায় আরবে ধর্মীয় সাহিত্যে ও সংস্কৃতিতে অনুপ্রবেশ করে ইহুদী খ্রিষ্টান কৃষ্টি কার্লচার।তারপর আসে গ্রিক হেলেনিক সভ্যতার প্রভাব।প্রচীন গ্রীক সভ্যতা তখন দর্শণ ওবিজ্ঞানের বিষয়গুলি চিন্হিত করে ফেলেছিল।গণিতবিদ্যা, জীববিদ্যা রসায়নবিদ্যা পদার্থবিদ্যা চিকিৎসা বিদ্যা ভূগোলবিদ্যা এবং নক্ষত্রবিদ্যা গুলি তারা পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতা থেকে গ্রহন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমেই প্রকাশ করেছিল।আবার নিজেদের মত করে সাহিত্যে ও সংস্কৃতিতে মিশর সিরিয়া আরব মুল্লকসহ বহিঃবিশ্বে চড়িয়ে দিয়েছে বা চড়িয়ে গেছে।যেমনি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য চড়িয়েছে।

 রেনেসাঁর যুগে সমগ্র ইউরোপ জুড়ে শুরু হয়েছিল সংসাকৃতিক সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক রাষ্ট্রিয় বিপ্লবসহ নানাবিদ বিপ্লব।এই সব বিপ্লব ধর্মীয় অনুভূতিকে কোনঠাসা করে তোলে।সংস্কৃতিক হলো সকল দলমত বর্ণের মিলনস্হল।এখানে সুষ্ঠ সুন্দর সামাজিক উৎকর্ষ সাধিত হয়।সংস্কৃতিক উৎসবে মানুষ ভেদভেদাভেদ ভূলে উদার ও আনন্দে মেতে উঠে।বর্তমান বিশ্বে সকল দেশে সকল জাতিতে এই সংস্কৃতিক উৎসব পালিত হয়।

সংস্কৃতির জন্ম হয় সৃজনশীলতায় ও গ্রহনশীলতায়। যে জাতি সংস্কুতি সৃষ্টি করতে পারেনা, সে জাতি অন্যের সৃষ্টি বরণ বা গ্রহন করেই হয় সংস্কৃতিবান।যারা সৃষ্টি করতে পারেনা, আবার গ্রহনও করতে পারেনা, তারা আসলেই নির্বোধ জাতি,কিংবা বণ্য জাতি।

আমরা বাঙ্গালীরা যে সব সংস্কৃতিক উৎসব পালন করে থাকি তা কি আমাদের নিজস্ব সৃষ্টি বা নিজস্ব সৃজনশীলতার মাধ্যমে পেয়েছি?উত্তর হবে না। আমরা গ্রহনশীলতার মাধ্যমেই পেয়েছি।আমাদের ধর্ম আরবের ও ভারতবর্ষের।আমাদের প্রশাসনিক সংস্কৃতি  আর্য মৌর্য গুপ্ত পাল ইরান তুরান তুর্কি মঘ মোগল ইসলামি ও ইংরেজদের থেকে পাওয়া।আমরা হলাম রক্তসঙ্কর ও বর্ণসঙ্কর জাতি।পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির ডিএনএ বহন করে আমরা হলাম জগা খিচুরি একটা জাতি।আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মিশ্র পাঁচ মিশালী।গ্রহন করা জাতি কি কোনদিন স্বাতন্ত্রিক হতে পারে?একটা জাতি স্বাতন্ত্রিক হতে হলে পুরোটাই গ্রহন করতে হবে। মেরা জুতা হ্যায় জাপানী,এ্যয় ফেতলুন ইংলিসস্হানি ফেরবি হিন্দুস্হানি হলে হবেনা।

আমাদের পূর্ব পুরুষরা ছিল বিজাতি,তারা গ্রহন করেছে ভীনদেশি ধর্ম বর্ণ কর্ম পদ্ধতি ও সংস্কৃতি।আমরা শরিরে বহে চলেছি বিজাতির রক্ত।সে জন্য আমাদের মধ্যে কোন লজ্জাবোধ না থাকলে স্বস্হিবোধ না থাকলে ঐক্যবোধ হবে কিভাবে?পরের সৃষ্টি গ্রহন করে আমরা হয়ে গেছি পন্ডিত মহা পন্ডিত।টক শোতে এসে ঝড় তুলি।কথায় কথায় ইংরেজি আওড়াই।বিদেশি সাহিত্যের রেফরেন্স দেই।অমুক প্রফেসার তমুক বারিষ্টার কিংবা ডাক্তার।দুপয়সা বাড়তি পাওয়ার জন্য বা বাড়তি সুজোগ সুবিধার জন্য নীতিভ্রষ্ট হয়ে যাই।কুকুরের মত উচ্চিষ্ট খাই।

যাদের যা হবার কথা নয় আজ তারা তা হয়ে গেছে।কেউ জিরু থেকে হিরু আর কেউ হিরু থেকে জিরু।নেবু চাদ নেজারের জিরু আবিষ্কার সার্থক হয়েছে।আমরা করছি রক্তে রচিত ইতিহাস বিকৃতি।আমরা আগাত হানছি নিজস্বস্বত্বা বাঙ্গালীত্বকে। আমাদরে ভাষায় ব্যবহারে সুরুচি সৌজন্যবোধ অত্যান্ত সিমীত।আমরা সালাম দেই আরবিতে অথবা হিন্দিতে। আরবের বেদুঈন আমাদের প্রিয় নবি।ভারতের কবিকে ধরে এনে বানিয়েছি আমাদের জাতিয় কবি।ভারতের ভ্রাম্ম নিরীশ্বরবাদী কবিকে বলি কবিগুরু বিশ্ব কবি। সুধী বলো নজরুল রবিন্দ্রনাথ আসলেই কি বাঙ্গালী?তারাকি মানতেন তাদের নিজস্ব ধর্মের রিতিনীতি?হতে পারে ভাষায় বাঙ্গালী কিন্তু প্রকৃত অর্থে বাঙ্গালী হবে না।উনারা শুধুই ভাববাদী একধরণের ব্যবসায়ি, কিন্তু কোনদিনই দার্শণিক হতে পারেন না।পরের সৃষ্টি গ্রহন করা কবিকে আমরা বরন করে নিয়েছি আমাদেরই সার্থে।আমাদের অক্ষমতার জায়গায় তারা সক্ষমতা এনে দিয়েছে বলেই।তার জন্য কৃতজ্ঞ না জানায়ে উপায় কি?আমাদের এত বড় রক্তেরচিত ইতিহাস থাকতেও আমরা হলাম আজ একটা অসুখি জাতি।আমাদের মধ্যে কেন এত মতনৈক্য বিশ্ময়!শুধুই বিশ্ময়!

সবাইকে মনে রাখতে হবে, ভাব মানুষকে নিয়ন্ত্রন করেনা।মানুষকে নিয়ন্ত্রন করে সামাজিক সুশাসন ও চলমান বাস্তব অবস্হা বা পরিস্হিতি।অপ্রিয় হলেও সত্য আমাদের রক্তে রচিত মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস কিছু লোককে মোটেই প্রভাবিত করেনা।তিরিশ লাখ শহীদ হলো কি হলো না, দুলক্ষাধিক মাবোনের সম্ভ্রমহানি হলো কি হলো না,তাতে তাদের কিছু যায় আসে না।তারা চায় শুধু ভালো আর্থসামাজিক অবস্হা। তারা চায় উন্নত জীবন ও সুশাসন।সে কারণেই মুক্তি যুদ্ধের চেতনা আজ বিনষ্ট এবং বিকৃত।এই দ্বায়ভার কার? রাজনীতিবীদদের না ইতিহাস বেত্তাদের সূধী?

                                                              ----চলবে

Samstag, 28. April 2018

এক ইশ্বর হাজার প্রশ্ন-?-৩-সৃষ্টিতত্ব


                                                             সৃষ্টি তত্ব ধর্মভিত্তিক

১,গ্রীক পৌরাণিক কাহিনী মতে বিশ্বভ্রম্মান্ড সৃষ্টিতত্বের ব্যখ্যা হলো এইরুপ।আদিতে সবকিছু ঘোর অন্ধকারে ঢাকা ছিল। সেই অন্ধকার থেকেই ক্যায়োস দেবতার জন্ম হয়।এই ক্যায়োস থেকে আবার জন্ম নেয় ইউরোনোম।ক্যায়োস কন্যা ইউরোনোম জন্মের পর সমগ্র বিশ্বজুড়ে চেয়ে দেখলেন, তিনি একটু পাঁ রাখার জায়গা খুঁজে পেলেন না।কারণ তখন আকাশ ও সাগর  একত্রে ছিল।তাই তিনি প্রথমে আকাশ থেকে সাগরকে পৃথক করলেন।আদি পুরাণ মতে এই সাগর ছিল পুরোটাই জলধারা।এই জলধারার দেবতা ছিলেন ওসিনাস।সাগরের তরেঙ্গর উপর তিনি একাকী নৃত্য করিতে লাগিলেন।এরি মধ্যে ক্যায়োস দেবতা অন্ধকারের সাথে মিলিত হয়ে সৃষ্টি করলেন দিন-রাত্রি.অন্ধকার ও বাতাস।আর ইউরোনোম নাচতে নাচতে দক্ষিন দিকে অগ্রসর হতে লাগলেন, তখন তার অনুগামি হলো বাতাস।এরপর তিনি বাতাসের গতিকে নির্ধারণ করে উত্তরের বাতাস ধরলেন এবং দুহাতের ভিতর বাতাসকে ঘসলেন। এরপর তিনি ক্যায়োস দেবতা থেকে উৎপন্ন ওফিয়ন নামক একটি সাপ দেখতে পেলেন।তারপর ইউরোনোম বিশাল অঞ্চল জুড়ে নাচতে থাকলেন।। ধীরে ধীরে এই নাচের সাথে সাথে ওফিয়ন কামাশক্ত হয়ে পড়লেন।ওফিয়ন নামক সাপটি কুন্ডলি পাকায়ে ইউরোনোমকে আকর্ষন করলো।এরপর ইউরোনোম একটি ঘুঘু পাখির রে ডিম পাড়লেন।আর ওফিয়ন সাতপাকে কুন্ডলী তৈরি করে সেই ডিমকে তা-দিতে লাগলেন।অবশেষে এই ডিম দুভাগে ভিবক্ত হলো। সেখান থেকে জন্ম নিল চাঁদ সুরুজ সহ অন্যান্ন গ্রহ নক্ষত্র।একই সাথে ক্রমবিকাসের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল পাহার নদী সাগর ইত্যাদি দ্বারা সুসজ্জিত হয়ে সৃষ্টি হলো জীব ও উদ্ভিদকুল।

২,হিন্দু ধর্মমতে সৃষ্টিতত্ব--

হিন্দু ধর্ম বিশ্বাস একক কোন ধর্মগ্রণ্হ অনুসরণে গড়ে উঠেনি।যেমন ইসলাম ধর্মের প্রবিত্র আল্ কোরআন। খ্রিষ্টান ধর্মের প্রবিত্র বাইবেল। হিন্দু ধর্ম হলো প্রচীন মুনি ঋষিদের সন্মিলিত একটা দর্শণ।এর সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে একাধিক বিভিন্ন পৌরাণিক উপাখ্যান।হিন্দু ধর্মের যে এক ও অদ্বিতীয় সত্বা,তার নাম হলো ব্রাম্মা। ঈশ উপনিষদে ব্রম্মের প্রকৃতি সম্পর্কে বলা হয়েছে---ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণত,পূর্ণমুদচ্যতে,পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমে বাবশিষ্যতে--এর সরলার্থঃ উহা( পরব্রম্ম)পূর্ণ ইহা (নামরুপে স্হিত ব্রম্ম)পূর্ণঃ এই সকল সুক্ষ ও স্হুল পদার্থ পরিপূর্ন ব্রম্ম হতে উদগত বা অভিব্যক্ত হয়েছে।আর সেই পূর্ণ স্বভাব ব্রম্ম্য হইতে পূর্ণত্ব গ্রহন করিলেও পূর্ণই অর্থ্যাৎ পর ব্রম্মাঅবশিষ্ট থাকেন।ত্রিবীধ বিঘ্নের আধ্যাত্মিক,আধি দৈবিক ও আদি ভৌতিক। শান্তি হউক ঈশ উপনিষদ।উপনিষদে বর্ণিত ব্রম্ম্যা হলো এক অদ্বিতীয় সত্বা।। ইনি সুক্ষ ওস্হূল সকল কিছুর উৎস।এই উৎস থেকেই জগতের বিভিন্ন উপকরনের সৃষ্টি হয়।

এর সমর্থন পাওয়া যায় অন্যান্ন হিন্দু ধর্ম গ্রণ্হেও।যেমন-মার্কেন্ডেয় পুরানে আছে যা অব্যক্ত এবং ঋষিরা যাকে প্রকৃতি বলে থাকেন যা ক্ষয় বা জীর্ন হয় না, রুপ রস গন্ধ শব্দ ওস্পর্শহীন, যার আদি অন্ত নেই,যেখান থেকে জগতের উদ্ভব হয়েছে।যা চিরকাল আছে এবং যার কোন বিনাশ নাই, যার স্বরুপ জানা যায় না, সেই ব্রম্ম্যা সবার আগে বিরাজমান থাকেন।

উপনিষদ ও মার্কেন্ডেয় পুরান অনুসারে দেখা যাচ্ছে সৃষ্টির আদিতে পরম ব্রম্মা বিরাজ করেন।এবং সেই পরম ব্রম্মা থেকেই জগতের সবকিছু সৃষ্টি হয়।এই সৃষ্টির পক্রিয়ার স্তরগুলো মার্কেন্ডয় পুরানে য বিবৃত হয়েছে তা হলো স্বত্ব (প্রকৃতি) রজ (যার প্রভাবে অহংকারসহ অন্যান্ন মন্দগুলোর জন্ম হয়)ও তম (অন্ধকার) এই তিনগুন তার মধ্যে পরস্পরের অনুকুলে ও অব্যাঘাতে অধিষ্টিত আছে। সৃষ্টির সময়ে তিনি (ব্রম্ম) এই গুনের সাহায্যে সৃষ্টিক্রিয়ায় প্রবৃত্ত হলে প্রধানতত্ব প্রাদুর্ভুত হয়ে মহৎতত্বকে আবৃত করে। এই মহতত্ব তিন গুনের ভেদে তিন প্রকার। এর থেকে তিনপ্রকার ত্রিবিধ অহংকার প্রাদুর্ভূত হয়। এই অহংকার ও মহতত্বে আবৃত ও তার প্রভাবে বিকৃত হয়ে শব্দতন্মাত্রের সৃষ্টি করে।তা থেকেই শব্দলক্ষন আকাশের জন্ম। অহংকার স্পর্শই বায়ূর গুন।অহংকার শব্দমাত্র আকাশ যখন আকাশকে আবৃত করে,এবং তখনই স্পর্শমাত্রের জন্ম। এবং স্পর্শমাত্রাকে আবৃত করে তখন বায়ূ বিকৃত হয়ে রুপমাত্রে সৃষ্টি করে।বায়ূ থেকে জ্যোতির উদ্ভব।রুপ ঐ জ্যোতির গুন।স্পর্শমাত্র বায়ূ যখন রুপমাত্রকে আবৃত করে তখন জ্রোতি বিকৃত হয়ে রসমাত্রের সৃষ্টি করে। তাতেই রসাত্মক জলের উদ্ভব।সেই রসাত্মক জল যখন রুপমাত্রাকে আবৃত করে তখন জল বিকৃত হয়ে গন্ধমাত্রে সৃষ্টি করে। তাতেই পৃথিবীর জন্ম হয়।(মার্কেন্ড পুরাণ)

পুরানের এই বিবৃত থেকে বুঝা যায় ব্রম্মা প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রুপান্তর করে পৃথিবী সৃষ্টি করেছে।কিন্তু এই বর্ণনা আমাদের কাছে সুস্পশ্ট বর্ণানার পরির্তে এক দুর্বোধ্য কল্পনাকে সজাগ্রত করে। আবার বিভিন্ন পন্ডিতরা যখন এর ব্যখ্যা নিজেদের মত করে করতে থাকেন, তখন তা বিভিন্ন অর্থে প্রতীয়মান হতে থাকে।

মহাভরতের আদিপর্বের সৃষ্টিবর্ণন অংশের সৃষ্টিতত্ব থেকে যে ধারণা পাওয়া যায়, তা কিছুটা বিজ্ঞানের সমার্থক বলে হিন্দু ধর্ম বিশ্বাসীরা মনে করে থাকেন।আধুনিক বিজ্ঞান বলে আদিতে বস্তুপুঞ্জ একত্রিত হয়ে একটি পিন্ডের সৃষ্টি হয়েছিল।বিস্ফোরণের মধ্যে দিয়ে বর্তমান মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছিল।তবে এরসাথে ঐশ্বরিক সত্বার মহিমা যুক্তকরার কারণে এই বর্ণনা ভিন্নমাত্রায় রুপ পরিগ্রহ করেছে।

প্রথমতঃ-এই বিশ্ব সংসার কেবল ঘোরতর অন্ধকারে আবৃত ছিল।অনন্তর সমস্ত  বস্তুর বীজভূত এক অন্ড প্রসুত হইল।ঔ অন্ডে অনাদি অনন্ত অচিন্তনীয় অনির্বনীয় সত্যরুপ নির্বিকার জ্যোতির্ময় ব্রম্মা প্রবিষ্ট হইলেন।অনুন্তর ঐ অন্ডে ভগবান প্রজাপতি ব্রম্মা স্বয়ং জন্ম পরিগ্রহন করিলেন। মহর্ষিগন একতান মনে যার গুনকীর্ত করে থাকেন।সেই অপ্রেম পুরুষ দশ বিশ্বদেব দ্বাদশ আদিত্ব অষ্টবসু যমজ অশ্বিনী কুমার যক্ষ সাধুগন পিশাচ গুহ্যক এবংপিতৃগন উৎপন্ন রইলেন।ততপরে জল, পৃথিবী বায়ূ আকাশ দশদিক সংবতম ঋতু মাস পক্ষ রাত্রিও অন্যান্ন বস্তু ক্রমশ সঞ্চাত হইল।

হিন্দু ধর্ম গ্রন্হগুলোতে সৃষ্টিতত্বের রুপ মোটামুটি এই ভাবেই বিবৃত হয়েছে। এই সকল বর্ণনা অনুসারে যে সারকথা পাওয়া যায় তা হলো আদিতে ব্রম্মা নামক পরম সত্বা ছিল।উক্ত সত্বা প্রকৃতিকে বিশাল অন্ডে রুপান্তরিত করলেন।সেই অন্ড থেকে সৃষ্টি হয়েছিল বিশ্ব চরাচর, এবং দেবতাসহ অন্যান্য সকল প্রাণী। লক্ষনীয় বিষয় হলো সৃষ্টির আদিতে যে ব্রম্মান্ড সৃষ্টি হয়েছিল,তাকে  মোটামুটি কিছুটা সমর্থন করা গেলেও পৃথিবী সৃষ্টির আগে জলের অস্তিত্বের কথা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।যদিও হিন্দু ধর্ম ও দর্শণ আরো সূবিস্তৃত।তার পরেও বলা যায় গ্রীক পৌরাণের সাথে হিন্দু দর্শণের মূল কথা প্রায় একই রকম।

বাইবেলের মতে সৃষ্টিতত্ব---

বাইবেলের পুরাতন নিয়মের আদি পুস্তোক অধ্যায় শুরা হয়েছিল জগত সৃষ্টির বিবরণের মাধ্যমে।সেই বিবরণটি হলো এইরুপ---

১,আদিতে ঈশ্বর আকাশ মন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করিলেন।২,পৃথিবী ঘোর  ও শূন্য ছিল।এবং অন্ধকার জলদির উপর ছিল, আর ঈশ্বরের আত্মা জলের উপর অবস্তিতি ৩,করিতেছিলেন।পরে ইশ্বর কহিলেন দীপ্তি হউক,তাহাতে দীপ্তি হিইল।ভ৪,তখন ঈশ্বর দীপ্তি উত্তম দেখিলেন।এবং ঈশ্বর অন্ধকার হইতে দীপ্তি পৃথক ৫, করিলেন।আর ঈশ্বর দীপ্তির নাম দিবস ও অন্ধকারের নাম রাত্রি রাখিলেন।আর সন্ধা ওপ্রাতঃকাল হইলে প্রথম দিবস হইল।৬, পরে ঈশ্বর কহিলেন, জলের মধ্যে বিতান হউক ও জলকে দুভাগে ৭,পৃথক করুক।ঈশ্বর এই ভাবে বিতান করিয়া বিতানের উদ্বস্হিত জল হইতে বিতানের অবস্হিত জল পৃথক করিলেন।৮,তাহাতে সেইরুপ হইল। পরে ঈশ্বর বিতানের নাম আকাশ মন্ঢল রাখিলেন।আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে দ্বিতীয় দিবস হইল।৯,-পরে ঈশ্বর কহিলেন, আকাশ মন্ডলের নীচস্হ সমস্ত জল একস্হানে সংগৃহিত হউক ও স্হান সপ্রকাশ হউক, তাহাতে ১০,-সেইরুপ হইল। তখন ঈশ্বর স্হানের নাম ভূমি, ও জলরামির নাম সমূদ্র রাখিলেন। আর ঈশ।বর দেখিলেন যে ১১,--তাহা উত্তম। পরে ঈশ্বর কহিলেন ভূমি তৃন, বীজাতপদক ঔষধি ও সবীজ স্ব স্ব জাতি অনুযাুিয় ফলেন উৎপাদক বৃক্ষ ভূমির উপরে উৎপন্ন করুক।১২,-তাহাতে সেরুপ হইল। ফলতঃ ভূমি তৃন স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী বীবীজোতপাদক ঔষধি ও স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী সবীজ ফলের ্ৎপাদক বৃক্ষ উৎপন্ন করিল, আর ঈশ্বর দেখিলেন যে সে সকল ১৩,- উত্তম।আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে তৃতীয় দিবস হইল।১৪,পরে ঈশ্বর কহিলেন রাত্রি হইতে দিবসকে বিভিন্ন করনার্থে আকাশ মন্ডলের বিতানে জ্যোতিগর্ন হউক,সে সমস্ত চিণ্হের জন্য এবং দিবসের ও১৫, বৎসরের জন্য হউক। পৃথিবীতে দীপ্তি দিবার জন্য দীপ বলিয়া আকাশ মন্ডলের বিতান থাকুক।তাহাতে ১৬ সেইরুপ হইল।ফলতঃ ঈশ্বর দিনের উপর কতৃত্ব করিতে এক মহাজ্যোতিঃ ও রাত্রি উপরে কর্তৃত্ব করিতে তদপেক্ষা এক জ্যোতিঃ এই দুই বৃহৎ জ্যোতিঃ এবং নক্ষত্র সমূহ নির্মান করিলেন।১৭, আর পৃথিবীতে দীপ্তি দিবার জন্য এবং দিবস ও রাত্রির উপরে কর্তৃত্ব ১৮ করনার্থে এবং দীপ্তি হইতে অণ্ধকারে বিভিন্ন করনার্থে ঈশ্বর দেখিলেন যে সে ১৯ সকল উত্তম। আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে চতু্র্থ দিবস হইল।

বাইবেলের এই বর্ণনার সাথে আধুণিক বিজ্ঞানের সৃষ্টি তত্বের বিশাল পার্থক্য লক্ষ করা যায়।এমনকি কিছু কিছু খাষ্য অযৌক্তিক ও মনে হয়ে। যেমন..বাইবেলের প্রথম অংশে আমরা দেখতে পাই যে আদিতে ঈশ্বর আকাশ মন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করিলেন।পৃথিবী ঘোর ও শূন্য ছিল,এবং অন্ধকার জলদির উপর ছিল।আর ইশ্বরের আত্মা জলের উপরে অবস্হিতি করিতেছিলেন।পরে ঈশ্বর কহিলেন দীপ্তি হউক তাহাতেই দীপ্তি হইল।।

আর আধুণিক বিজ্ঞান বলে আদিতে পৃথিবী ছিল গ্যাসপূর্ন আগুনের গোলক পিন্ড হিসেবে।আর সেখানে বাইবেল আদিতে পানির অস্তিত্বকে তুলে ধরেছে।বাইবেলের এই ধারণার সাথে বিজ্ঞানের ধারণা না মিললেও গ্রীক পৌরাণিক ও হিন্দু পৌরাণিকের সাথে মিলে যায়।

হিন্দু ধর্ম মতে সমগ্র পৃথিবী জলমগ্ন ছিল। আর তার উপরে বিষ্ণু অনন্ত শয়নে ছিলেন।নার অর্থ জল। নারের উপর বিষ্ণু অবস্হান করেছিলেন বলে তিনি নারায়ন।কিন্তু ভিন্ন প্রেক্ষপটে বিচার করলে বিষয়টি অতটা অযৌক্তিক মনে হয় না।এই বিষটি নিয়ে তৃতীয় পাটে আলোকপাত করা হয়েছে।

বাইবেলের মতে চতুর্থদিনে ঈশ্বর সূর্য তৈরি করিলেন। পৃথিবী সৃষ্টির পরের কথা।বিজ্ঞানের মতে পৃথিবী এবং সূর্য একি সাতে তৈরি বা সৃষ্টি হয়েছিল।তাছাড়া গাছপালা জন্মের জন্য সূর্যর কিরণ অত্যাবশ্যকীয় উপকরন।অতচ বাইবেলের মতে সৃষ্টির তৃতীয় দিনেই গাছপালা সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।প্রাণী সৃষ্টির বেলায়ও প্রাণের ক্রমবিকাশ বা বিবর্তনের ধারা মিলেনা।- 

প্রবিত্র কুরআনের মতে সৃষ্টিতত্ব--

গ্রীক পৌরাণিক গ্রণ্হ সমূহে কিংবা বাইবেলের মতে কুরআনে বর্ণিত তথ্যাবলী উপস্হাপনেই ধারাবহিকতা রক্ষিত হয়নি।মুলত আল্লাহর স্বরুপ আল্লাহর প্রতি মানুষের আনুগত্য সহজও সরল পথ অনুসরণে মানুষের জীবন যাপনের ধারা ইত্যাদি সম্পর্কিত নির্দেশাবলী কুরআনের বিষয়। তাৎক্ষানিকভাবে উক্ত  প্রেরীত বাণী ছিল তৎকালীন আরব বাসীদের জন্য। কিন্তু এই বাণী এমন ভাবে পরিবেশন করা হয়েছিল যে যাতে করে আগামীদিনের সকল ভূখন্ডের মানুষের ও দিকনির্দেশনা পেতে পারে।এই নির্দেশনার অনুষঙ্গ বা উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সহায়ক তথ্যাবলী।এই তথ্যাবলীর ভিতর রয়েছে পূর্ববর্তী বিভিন্ন নবীদের কার্যকলাপ; প্রচীন ইতিহাস প্রকৃতি ও মানুষ সৃষ্টির বিভিন্ন তথ্যাবলী।। মানুষের জীবন যাত্রার পদ্ধত্বিসহ আরও বিবিধ প্রাসঙ্গিক বিষয়বলী এইভাবে উপস্হাপনের কারণে কুরআনের অনেক জায়গাতেই একই উদাহরণ বারবার এসেছে।উদাহরণ প্রয়োগে বা মুল নির্দেশনাটি কোন ক্ষেত্রে বিস্তৃত আকারে এসেছে।আবার কোন কোন ক্ষেত্রে অত্যান্ত সংখিপ্ত আকারে এসেছে।সে কারণে পুরো কুরআন পাঠ না করে এর অংশ বিশেষের নির্দেশ মেনে কোন বিষয়ে মিমাংশা করাটা অত্যান্ত অবিবেচকের কাজ হবে।দূর্ভাগ্য জনক হলেও আমাদের দেশে কিছু ফতোয়াবাজরা এই কাজটি বেশ নিষ্টার সাথে করে থাকেন।

প্রবিত্র কুরআনে বিশ্ব ভ্রম্মান্ড সৃষ্টির ক্ষেত্র ও তথ্যাবলী পাওয়া যায় সহায়ক উপকরণ হিসেবে।যেহুতু এই সহায়ক বাণীগুলো বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিস্তারিত বা সংখিপ্ত আকারে এসেছে।তাই কোন বিশেষ সুরার বিশেষ আয়াতকে উপস্হাপন করে বিষয়টি বুঝতে গেলে বিব্রন্তির সৃষ্টি হতে পারে।যেমন--কুরআনে মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও পৃথিবী সৃষ্টি প্রসঙ্গে ২দিন বা ৬দিনের কথা বলা হয়েছে।কুরআনের সমগ্র পাঠ উপলদ্ধি না করলে বিষয়টি বিষয়টি অবশ্যই বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।াসিুন এই বিভ্রান্তির বিষয়টি দিয়েই কুরআনের দৃষ্টিতে সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে আলোকপাত করা যাক।

সুরা আরফ, আয়াত নং৫৪--নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ।তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ৬দিনে সৃষ্টি করেছেন।এখানে সমগ্র বিশ্ব চরাচর ৬দিনে সৃষ্টির কথা সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে।এই হিসেবটা বাইবেলের সাথে মিলে যায়।কিন্তু এই আয়াতে ৬দিনের সৃষ্টিকে দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।একটি ভাগ নভোমন্ডল অর্থ্যাৎ মহাকাশ ও এর সকল উপকরণ সমূহ। দ্বিতীয় ভাগে সৃষ্টি করেছেন ভূমন্ডল অর্থ্যাৎ পৃথিবী।এখানে একটি বিষয় লক্ষ করুন।ঐখানে অধিকাংশ অনুবাদক দিন শব্দ ব্যবহার করেছেন।কিন্তু এই দিন বলতে প্রকৃতপক্ষে কি বুঝানো হয়েছে তাহাও ভাববার বিষয়।এখানে পার্থিব দিন হিসেবে মোটেই গ্রহন করা যাবেনা।কারণ সৃষ্টির আদিতে যখন পৃথিবী  ও সূর্য তৈরি হয়নি, তখন পার্থিব দিনের বিষয়টি আসতে পারেনা।আমরা জানি যে আরবী ইয়াওম শব্দের অর্থ হলো দিন।কিন্তু উক্ত আয়াতে ব্যবহার করা হয়েছে আইয়াম।উল্লেখ্য আইয়াম হলো ইওয়াম শব্দের বহুবচন।, অর্থ্যাৎ দিনসমূহ।এখানে আক্ষরিক দিবসসমূহ ব্যবহার না করে এর অর্থ গ্রহন করা উচিত কাল, পর্যায়, যুগ ইত্যাদি অর্থে।সে হিসেবে এ আয়াতের অনুবাদ হওয়া উচিত ছিল তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ৬ যুগে বা কালে সৃষ্টি করিয়াছেন। 

প্রবিত্র কুরআনে বর্ণিত এই ছয় মহাকালের মধ্যে আল্লাহ কোন পর্যায়ে  তৈরি করেছেন, তা পাওয়া যায় সুরা হামীম সেজদাতে।সুরা হামীম আয়াত নং ৯-১১--৯, বলুন তোমরা কি সে সত্বাকে অশ্বিকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দৃদিনে এবং তোমরা কি তার সমকক্ষ স্হির কর?তিনি তো সমগ্র পৃথিবীর পালন কর্তা।১০--তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগ অটল পর্বতমালা স্হাপন করেছেন।তাতে কল্যান নিহীত রেখেছেন এবং চারদিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্হা করেছেন।পূর্ন হলো জিজ্ঞাসুদের জন্য।১১, অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ...

এই সুরায় উল্লেখিত দুদিন নিয়ে বিভ্রান্তিতে পতিত হন অনাবাদগন। লক্ষ করা যায় সুরা আরফ এর ৫৪ আয়াতে ছয়টি পর্যায়ে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।অর্থ্যাৎ এখানেই এই ছয়টি পর্যায়কে দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর একটি হলো নভোমন্ডল সৃষ্টির কাল,অপরটি হলো ভূমন্ডল সৃষ্টির কাল।এই দুটি পর্যায়ের প্রথমেই নভোমন্ডল তৈরি করার সময়ই পৃথিবী তৈরি হয়ে গেছে।বিশ্ব চরাচরের প্রাথমিক বিণ্যাশে আল্লাহ মাত্র দুটি পর্যায় ব্যয় করেছেন।ফলে ছয়টি পর্যায়ের মধ্যে চারটি অবশিষ্ট থেকে যায়। এই কারণে সুরা হামীম সেজদাহ ৯ আয়াতে উল্যেখ করা হয়েছে যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুদিনে।বাঁকি চারটি পর্যায় আল্লাহ ভূমন্ডল তৈরিতে মনোনিবেশষ করলেন। ফলে পৃথিবীর উপরিভাগে পাহাড় পর্বত স্হাপন করলেন। সুরা হামীম ১০ আয়াতে তার উল্লেখ পাওয়া যায়। এই বাবে তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগ অটল পর্বতমালা স্হাপন করেছেন।এর সাথে উক্ত আয়াত থেকেই জানা যায় যে আল্লাহ খাদ্যের উপযোগি পরিবেশ ও উপকরন সৃষ্টি করেছেন।অর্থ্যাৎ নদী সাগর প্রাণ ধারনের উপযোগি বায়ূমন্ডল গাছপালা ও অন্যান্ন প্রাণী তৈরির বিষয়টিও এই সময়ে সমর্পন হয়েছিল।

আর বিজ্ঞানের মতে ১৫০০-১০০০ হাজার বছরের মধ্যে গ্যালাক্সিগুলোর বিণ্যাশ হয়েছিল বটে কিন্তু সূবিণ্যাস্ত ছিলনা।। কিন্তু ৫০০শত কুঠি বছরে যখন সূর্য পৃথিবী ইত্যাদি তৈরি হয়েছিল, তখন মহাকাশেও তেমনি পক্রিয়া চলছিল।এই পর্যায়ে কিছু কিছু নক্ষত্র তৈরির পক্রিয়া চলতে থাকলে ও তাদের অধিকাংশই তখন গ্যাসীয় অবস্হাতে ধুম্রকুজ্ঞের দিকে নজর দিলেন।অর্থ্যাৎ ধুম্রকুঞ্জের বিভিন্ন মহাকাশীয় অবজেক্ট পরিণত করলেন।সৃষ্টির এই পর্যায়ে যখন আকাশ মন্ডলের দিকে আল্লাহ নজর দিলেন, তখন মহাকাশেকে সম্প্রসারণ ও পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন।

বিষয়টি সুরা আন্ নাযিয়াতে যে ভাবে বলা হয়েছে।তা হলো--সুরা আন্ নাযিয়াত, আয়াত নং ২৭--৩০--২৭, তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন তিনি আকাশ নির্মান করেছেন২৮, তিনি একে উচ্চ এবং সূবিন্যস্ত করেছেন।২৯,তিনি রাত্রিকে করেছেন অন্ধাকারাচ্ছন্ন এবং এর সূর্যালোক প্রকাশ করেছেন।৩০,পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।

এই ছয়টি পর্যায়ের ভিতরই মহাকাশ সম্প্রসারিত হওয়ার কথা। নাকি মহাজাগতিক বিগব্যাং এর পরে কিছু সময় এই সমপ্রসারন স্তিমিত বা থেমে গিয়েছিল কি? এবং পরে এর সম্প্রসারণের পক্রিয়া চালু হয়েছিল।এই জাতিয় প্রশ্নটি উঠতেই পারে।কোন একটি বিশাল বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রে যে শূণ্যতার সৃষ্টি হয়, তার প্রতিক্রিয়ায় স্হবিরতা নেমে আসতেই পারে।

উপরের ধর্মীয় মতাদর্শ গুলো বিশ্বভ্রম্মান্ড সৃষ্টি সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছে মাত্র। এই ইঙ্গিতকে বিনা দ্বিধায় বিশ্বা করে নিতে হবে। এমন কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েচে।এই নির্দেশ মানতে গিয়ে সত্য রক্ষিত হবে কিনা তা বিবেচ্য নয়।যেক্ষেত্রে এই বিশ্বাসের সম্পর্কে সত্যানুসন্ধানের ঐক্য হবে সেখানে ধর্মবাদীরা ধর্মের সত্যনিষ্ট শক্তির কথা সগৌরবে প্রচার করেন।কিন্তু যেখানে এই  সত্য লন্ঘিত হয় সেকানেই সৃষ্টি হয় সত্যের সাথে ধর্মীয় বিশ্বাসের সংঘাত। যেমন খিষ্টান পুরোহিতদের সাথে গ্যালিলিওর মতবাদের সংঘাত।

মুলতঃ ধর্মীয় দর্শণের সাথে সংঘাতের সুত্রপাত ঘটে বিজ্ঞানের আলোকময় পথে।প্রশ্নো হলো বিজ্ঞান কি সর্বদা অভ্রান্ত না তেমনটি ভাবার কোন কারণ নাই।কিন্তু বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে চলে।ক্রুটি সয়শোধনের ক্রমধারার মধ্য দিয়েই কিন্তু ধর্মীয় বয়ানকে গোড়া থেকে অভ্রান্ত ও চিরন্তন সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।এর কোন অংশ সংশোধন করতে গেলেই ধর্মের এই চির সত্যের প্রসাদ ভেঙে পড়ে।তাই বিজ্ঞানীরা যেকানে প্রতিনিয়ত নিস্টার সাথে সত্যের কাছে পোঁছার জন্য নিজেদের সত্যকে অগাহ্য করে নতুন সত্যকে উপস্হাপন করে। সেখানে ধর্মীয় পুরোহীতরা মিথ্যা জেনেও পুরানা ধারণাকে নিষ্ঠার সাথে রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।                                               

 

------চলবে

Montag, 23. April 2018

এক ইশ্বর- হাজার প্রশ্ন-?--১






হে অজানা অচেনা অদেখা জগত স্রষ্টা মহান প্রভূ! তুমি আছো কি-বা নাই,আমি তা জানিনা।সত্যিই মোটেই জানিনা।যদি তুমি সত্যিই থেকে থাকো,তো আমি তোমারই সৃষ্টি এক মনুষ্য সন্তান।আমি অবোধ অবুঝ শিশুর মত তোমার কাছে হাজার প্রশ্ন করছি। মনে করো এটা আমার প্রথম বাক্যস্ফুররণ।আমি জানিনা তোমার কাছে কোন প্রশ্ন করা কি আমার উচিত অথবা অবান্তর কিনা। তবু করছি শিশু মনের আকুল আকাঙ্খায়।
আমার শিশু মন প্রতিদিন প্রতিক্ষন ব্যকুল ভাবে জানতে চায়,তোমার ও এই বিশ্বভ্রম্মান্ডের  সৃষ্টিতত্বের ইতিহাস।জানতে চায় এটা কি ওটা কি এবং কেন,কি কারণে এটা হলো, এটা সত্য কি-বা মিথ্যা এসব জানার জন্য।
হে অদেখা জগত স্রষ্টা! হে  প্রভূ ! এই ভাবে জানা শুনার মাধ্যমেই তো আমার পূর্ব পুরুষরা আজ বিশ্ব ভ্রম্মান্ড জয় করিয়াছে।এই ভাবেই তো ওরা তোমাকে তাদের মত করে আবিষ্কার করিতে পারিয়াছে।এই ভাবেই তো জানতে জানতে আজ এই মনুষ্য সমাজ ধর্মে দর্শণে বিজ্ঞানে এত সমৃদ্ধ ও সক্ষম হতে পারিয়াছে।
হে অচিন প্রভূ ! তোমাকে মানুষ শত শত রুপে শত শত নামে আর্বিভূত করলেও আজ  মানুষরাই মেনে নিয়েছে তুমি যে একি স্বত্বা। তোমাকে  কেউ ডাকে আল্লাহ বলে, কেউ ডাকে ইশ্বর বলে,কেউ ডাকে স্রষ্টা বলে, কেউ ডাকে ভগবান বলে, আবার কেউ ডাকে গড বলে। জানিনা তুমি কাহারো ডাকে সাড়া দিয়েছ কিনা বা দাও কিনা?মানুষের অসিম আকাঙ্খার একমাত্র শসিম ও অনন্ত শান্তনা ও ভরসার স্হল হলে তুমি।জানিনা তুমি এই মনুষ্য জাতিকে সৃষ্টি করেছ না কথিত মনুষ্য সন্তানরা তোমাকে সৃষ্টি করেছে।আমি অবোধ মনুষ্য সন্তান তোমাকে  প্রভূ আর ইশ্বর বলে ডাকতেই স্বাচ্ছন্ধবোধ করছি।সাড়া দাও কি-বা নাহি দাও গোস্তাকি ক্ষমা করো যেন হে প্রভূ!


১, হে মহান প্রভূ তুমি আছো কি-বা নাই---?
হে প্রভূ আজ সমগ্র বিশ্বে প্রায় সাড়ে ছয়শত কুঠি মানুষ বসবাস করে। এর মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই অর্থ্যাৎ পাঁচ ভাগের চার ভাগ মানুষই তোমার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। তুমি আছ বলে শিকার করে। এদেরকে মানুষ বলে আস্তিক।আর কম সংখ্যক মানুষ অর্থ্যাৎপাঁচ ভাগের একভাগ মানুষ  যারা  তোমার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, বা তুমি বলতে কিছু নাই বলে শিকার করে। এদেরকে মানুষ বলে নাস্তিক।দুদলেই আছে শিক্ষিত অশিক্ষিত মুর্খ জ্ঞাণিগুনি কবি সাহিত্যিক দার্শণিক বিজ্ঞানী।হে প্রভূ কাদের কথা সত্য? এবং কাদের কথা মিথ্যা? আমরা গড়পড়তা মানুষ কাদের কথা বিশ্বাস করবো? কিচ্ছুই বুঝতে পারছিনা ।?

হে প্রভূ তুমিই এই সবের সদুত্তর দিতে পারবে কিনা আমি জানিনা।তুমি আমার চিন্তা চেতনা বিবেক বোধ এবং কৌতুহলের বাহিরে নয় বরঞ্চ মধ্যেই আছ। মধ্যখানেই তো আমার জন্ম।আমার জন্মের শত শত বছর পুর্বে মানুষ তোমকে আবিষ্কার করেছে।কত কত নামে তোমাকে ডাকতেছে।আমি তো মধ্যরাতে এসে লোকমুখে শুনেছি তোমর নাম।কেউ বলে মানুষ তোমাকে জন্ম দিয়েছে, আবার কেউ বলে মানুষকে তুমি জন্ম দিয়েছ। যে যেমনি বলেছে তেমনি শুনেছি বা মেনে নিয়েছি।  আমি কিছুই জানিনা আমি জানি শুধু সত্যের সংজ্ঞা হয়-- শুধু এক, আর মিথ্যার সংজ্ঞা হয় অধিক!কিন্তু একটা কথা সুস্পষ্ট করে বলে রাখি আস্তিক নাস্তিক কাহারো কাছে কোন সুনির্দিষ্ট তত্তপ্রমানাধি নাই তোমার সৃষ্টিও রহস্যের।
কেউ বলে মানুষের চিন্তা চেতনা বোধ কল্পনা ও কৌতুহলেই হয়েছে তোমার সৃষ্টি।তুমি যদি সত্যিকারার্থে নাও থেকে থাক, তবু ও মানুষের বোধ কৌতুহল ও কল্পনায় বেঁচে থাকবে নিরন্তর।তোমাকে গিরেই মানুষের ধর্ম দর্শণ জ্ঞান বিজ্ঞান ও ইহিতাসের সীমারেখা।কাব্যে কবিতায় ছন্দে গানে অনুরাগে আবেগে ভারতবর্ষের মানুষ তোমাকে কত কত নামে ডাকে।তুমি নাকি মহান প্রভূ,ঈশ্বর, ভগবান,জগতস্রষ্টা,জগত স্বামী,প্রাণেশ্বর,যোগীশ্বর ওঁ অদিপতি ইত্যাদি।আমি জানিনা প্রভূ তা কতটুকু সত্য?
হে প্রভূ হিন্দুত্ববাদীরা বলে বেড়ায় তুমি স্বয়ম্ভূ।অর্থ্যাৎ তুমি নিজে নিজে জন্ম নিয়েছ।তাও কি সম্ভোব?পিতামাতা ব্যতীত প্রজনন প্রক্রিয়া ছাড়া কি কেউ জন্ম নিতে পারে?হিন্দুবাদীরা একমুখে বলে ভগবান বিষ্ণু জলের উপর একটি সোনার ডিম নিক্ষেপ করলে সেই ডিম থেকে ভগবান ব্রম্ম্যা স্বয়ং বের হয়ে আসে।এটা কি ভাবে সম্ভব?সোনার একটা ভারী ডিম তো পানিতে ডুবে যাওয়ার কথা। আমরা জানি কেবল পঁচা ডিমই পানিতে ভাসে।
ব্রম্মা হলো হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ভগবান।ব্রম্মার অর্থ হলো অব্যয়,অব্যক্ত, চিরন্তন, সর্ব সৃষ্টিকর্তা,সর্বব্যপক, স্বয়ম্ভূ।তিনি অদৃশ্য, আদি ওঅন্তহীন, তিনি কালের ও সীমাহীন অতীত।ত্রিমুর্ত্তির প্রধান অংশ, এবং তিনি বিষ্ণুর সৃষ্ট ডিম্ব হতে উৎপন্ন।
এখন প্রশ্ন আসে বিষ্ণু কে?বিষ্ণু হলেন নারায়ন কৃষ্ণ।তিনি আবার ত্রিমুর্ত্তির এক অংশ ও সৃষ্টিপালক।তার পিতার নাম কশ্যপ, মাতার নাম অদিতী। আর তার দু-স্ত্রি লক্ষী ওস্বরস্বতী।তিনি প্রলয় সমুদ্রে ভাসমান অবস্হায় নারায়নরুপে শিষ নাগের উপর শায়িত ছিলেন।তার নাভিপদ্ম থেকে সৃষ্টিকর্তা ব্রম্মের উৎপত্তি হয়।ইনি দশবার আবতার রুপে পৃথিবীতে আসবেন--ইতিমধ্যে নয়বার এসে গেছেন।শুধু কঙ্কিত আবতার আসার এখনো বাঁকি।

এখানে প্রশ্ন হলো কেন এই দ্বিচারিতা? একবার বলা হলো বিষ্ণুর নিক্ষেপ করা স্বর্ন ডিম্ব থেকে ব্রম্মার জন্ম, আবার বলা হলো বিষ্ণুর নাভীপদ্ম থেকে ব্রম্মার জন্ম। এটা তো হয়ে গেল দ্বিমুখি।মুলত হিন্দু ধর্মে ব্রম্মা, বিষ্ণু , ও মহেশ্বরকে নিয়ে ত্রিমুর্ত্তির কথা বলা হয়েছে।তারা হলেন সৃষ্টিকর্তা, রক্ষাকর্তা, ও ধ্বংশকর্তা।
আবার কৃষ্ণকেও তারা ভগবান হিসেবেই মনে করেন।কৃষ্ণ শব্দের অর্থ হলো সর্ব আকর্ষনীয়।তিনি সকলকে আকর্ষন অভিভূত ও বশ করতে পারেন।হিন্দুবাদীরা বিশ্বাস করেন ঈশ্বর জ্ঞান সৌন্দর্য, শক্তি,যশ  ও সম্পদের আধার।তিনি সকলের মাঝে এবং সর্বস্হানে বিরাজমান।তিনি শুধু মানুষের পিতা নন, তিনি বিশ্বের সবকিছুর পিতা।
হে প্রভূ! তুমি নিশ্চয় জানো বোড্ডিষ্টরা তোমার অস্তিত্বে এবং তোমাকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করেনা।তারা আবার পূর্নজনমে বিশ্বাস করে।কিন্তু এও বিশ্বাস করে পুর্নজনম মানুষের আকারে নাও হতে পারে। প্রত্যেক মানুষের কর্মফল অনুযায়ি পৃথিবীর অন্যান্য জীবজন্তুর আকারেও হতে পারে।
হে প্রভূ! ইসলাম ধর্মবাদী তথা মুসলিমরা তোমাকে আল্লাহ নামে ডাকে।তারা বিশ্বাস করে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ বা উপাস্য নাই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তার কোন অংশিদার নেই। তিনি আহাদ, তিনি আউয়াল, তিনি আখের তিনি জাহের ও বাতেন,তিনি খালিক তিনি মালিক, তিনি রহিম রহমান, তিনি আলঅযু ও মুসুব্বির, তিনি গাফ্ফার,ও হাদী।এগুলি ছাড়াও আরো নিরানব্বইটি নাম আছে তোমার।
হে প্রভূ! আবার পুরানো আর্য সম্প্রদায় আরো কতো কতো নামে ডাকতো তোমায়। যেমন--গ্রীকরা ডাকতো জিউস নামে, রোমানরা ডাকতো জুপিটার নামে,হিন্দুরা ডাকতো দেবরাজ নামে। পেরুর ইনকারা ডাকতোপাকহকিমিকি নামে মেক্সিকানরা ডাকতো তোলাকু লাহুয়াকু তেজকাৎ লিপোকা নামে, পলেনেশীয়ারা ডাকতো টাঙ্গাপেয়া নামেপশ্চিম আফ্রিকানরা ডাকতো নিয়োমোই নামে, আবার ইংরেজরা ডাকে গড নামে।আরো কতো শত নামে মানব জাতি তোমাকে ডাকে।জানিনা তোমার নিত্যসত্য নাম কোনটি?
হে জগত প্রভূ!মানুষ এক মুখে বলে তোমার কোন রুপ নেই, তুমি নিরাকার, অদৃশ্য। আবার মানুষের বলে তুমি নাকি সাকার। তোমার নাকি মানুষের মত আকার আছে।মানুষের মত তোমার নাকি হাত পাঁ কান সবি আছে।তোমার নাকি বসার জন্য সিংহাসন আছে, রাজ্য আছে। তোমার নাকি মন্ত্রি পরিষদ আছে। সেনাধ্যক্ষ আছে, পদাতিক কর্মচারি আছে এবং এরাও নাকি উড়ে চলে কথা বলে, লেখাপড়া হিসেব নিকেস করে।আমি জানিনা সত্য কি-না--?
  • বাইবেলের পুরান নিয়েমে বলা হয়েছে প্রেরিত পুরুষরা তোমাকে নাকি দেখেছেও--
  • মোসেস নাকি তোমার পিট দেখেছে?,
  • য্যাকোব নাকি স্বপ্নে দেখেছে পৃথিবী থেকে একটি সিঁড়ি স্বর্গের দিকে উঠে গেছে আর সিঁড়ির উপর তুমি দাঁড়িয়ে আছ আপন মহিমায়।
  • মিখাইয়া দেখেছে তুমি নাকি সিংহাসনে বসে আছ, আর তোমার ডানবামে সাঙ্গপাঙ্গরা দাঁড়িয়ে আছে।
  • ঈশাইয়া দেখেছে তুমি রাজকীয়ভাবে চ্যয়ারে বসে আছ,
  • য়িহিস্কেল মানুষের আকৃতিতে বসে থাকতে তোমাকে দেখেছে।


হে জগত প্রভূ! কিছু কায়েমী সার্থবাদী আর ধর্ম ব্যবসায়িরা তোমাকে জন্ম দিয়েছে। একথা দিবালোকের মত সুস্পষ্ট।তুমি মানুষকে জন্ম দাওনি। ভন্ড মানুষেরা তাদের নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে তোমাকে জন্ম দিয়েছে।যুগে যুগে তারা তোমার কত কত নাম দিয়েছে।একবার বলে তুমি সাকার আবার বলে তুমি সাকার।আবার বলে তুমি পুরুষের মত আকার বিশিষ্ট ব্যক্তি।আবার বলে তুমি কোন নারীর স্বামী নন। তোমার কোন প্রজনন ক্ষমতা নাই।তোমার কোন সন্তানাদি নাই, তুমি কোরো পিতাও নন।তুমি শুধু ‍ুক মানুষের সার্থসিদ্ধীর জন্য তৈরি এক অদৃশ্য নাম সুচক জীব? তুমি মানুষের বানানো কল্পনার সন্তান।
হে প্রভূ! আমার ধারণা যারা বলে এই পৃথিবী তুমি সৃষ্টি করেছ তারা বড় গন্ড মুর্খ, অজ্ঞ এবং নেশাখোর।বেকন দেকার্তের ডারউনের মত মহামানবরা যুক্তি দিয়ে বুঝায়েছেন, সৃষ্টিতত্বে তোমার কোন হাত নাই।তবুও মানুষ বুঝতে পারছেনা তাদের ভূল।
হে প্রভূ! তোমাকে মানুষ বলে সর্বশক্তিমান,প্রকৃত অর্থে তোমার তো কোন শক্তি নাই।তুমি কারো কাছে পাথর আবার কারো দৃষ্টিতে শুধুই শূন্য।তোমার দেওয়ার ওপাওয়ার কিছুই নেই।এই পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তা কাকতালিয় ভাবেই ঘটে। আর ধর্মব্যবসায়িরা ঈশ্বরের দান বলে সাধারণ মানুষকে ঠকায়, ধোকা দেয়।
হে প্রভূ! আজ তোমাকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে মন্দিরের পুরোহিত চার্চের পাদ্রি আর ব্যবসায়ি মোল্লারা।শুধুই তাদের ধান্ধার কারণে।তোমার নাম ব্যবহার করে মানুষ কি না করেছে? কুঠি কুঠি টাকা খরছ করে মন্দির গির্জা পাকোডা, সিনাগোগি মসজিদ বানিয়েছে। কেউ চার্চ ভেঙে মসজিদ বানিয়েছে, কেউ মন্দির ভেংে মসজিদ, কেউ আবার মসজিদ ভেঙে মন্দির বানিয়েছে।তোমার নাম ভাঙিয়ে ক্রুসেড করে রক্তে ভিজিয়েছে এ পৃথিবীর শ্যামল মাটি।হত্যা হয়েছে লক্ষকুঠি নরনারি শিশু বৃদ্ধবৃদ্ধা।তোমার নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ হয়েছে বাদশাহ নামদার, জবরদস্তি রাজ্য করেছে বিস্তার।ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগনের উপর করেছে জুলম অত্যাচার।নিরীহ ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে শাস্তি আর অপরাধিরা পেয়েছে মুক্তি।বোধ হয় মানুষ যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন স্রষ্টা তোমার মৃর্ত্যু নাই।মৃর্ত্যু হলেও মানুষ তোমাকে বার বার জন্ম দিবে।মানুষের অসিম কল্পনার ক্ষমতাতেই তোমার জন্ম হবে। আমি নিশ্চত বৈ-কি?

২, হে মহান প্রভূ তুমি আকার না সাকার--?
হে প্রভূ! ধর্ম বিশ্বাসীরা প্রায় সবাই বলে তুমি নিরাকার,তুমি সর্বশক্তিমান, তুমি সর্বব্যপী, তুমি দয়াময় তুমি রিজিক দাতা।তুমি সবি দেখ শুনো। তোমার ইশারা ব্যতীত গাছের পাতা পর্যন্ত নড়েনা।  হিন্দু ধর্ম বিশ্বাসীরা বলে তুমি নাকি মাঝে মধ্যে সাকার হয়ে রাম কৃষ্ণদের মত  রুপ ধারণ করিয়া আবতার রুপে পৃথিবীতে আস।কিছুদিন থাকো লীলা তামাসা করে আবার ফিরে যাও তোমার আপনার ঠিকানায়।
ইহুদী খৃষ্টানরা বলে তুমি ইশ্বর মশীহ এবং পরমআত্মা। এই তিন রুপে প্রাকাশ পেয়ে ধরণীতে আস।আবার মুসলিমরা বলে তুমি নিরাকার এক অদ্বিতীয় সত্বা। লা শরিক মাবুদ আল্লাহ। তুমি আরশ কুরছিতে বসিয়া নাকি কয়েক জন ফেরেশতার মাধ্যমে বিশ্ব পরিচালনা করিতেছ।কেনই বা তুমি সাকার রুপ ধারণ কর?কেনই বা ত্রিরুপে প্রকাশিত হও?তুমি যদি নিরাকার হয়ে থাকো, তো কিভাবে আকার ধারণ করে পৃথিবীতে আসো?তুমি যদি সর্বশক্তিবান হয়ে থাকো কেন গুটি কয়জন ফেরেশতার সাহয্য তোমার প্রয়োজন হয়?তুমি যদি সর্বব্যাপি হয়ে থাকো এই আসা যাওয়ার কারণ কি?তুমি যদি দয়াময় হয়ে থাকো তোমার সৃষ্ট সমাজে এত নির্দয় কেন?কেন মানুষ মানুষকে এমন নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করে?কেন জীব জীবকে নির্মম ভাবে হত্যা করে?কেন একে অপরকে ভক্ষন করে?তুমি মুদ্রার এপিট ওপিট হও কেমন করে? তুমি কারো জন্য দয়াবান,আবার কারো জন্য ন্যয়বান। এই দৈত নীতি কেন তোমার? তুমি যদি রিজিক দাতা হয়ে থাকো তোমার সৃষ্ট জীব কেন একে অপরকে ভক্ষন করে বেঁচে থাকে?আবার তোমার সৃষ্ট অসংখ্য জীব কেন না খেয়ে মরে?
হে প্রভূ!বকধার্মিকরা বলে তুমি নাকি সবি দেখ এবং শুনো।তাহলে কি মানুষের মত তোমারও হাত-পাঁ নাক মুখ কান চক্ষু আছে?তাহলে কি তোমারও মানুষের মত মন মানসিক আছে? অনুভূতি অনুভব ব্যথা ব্যদনা দুঃখ কষ্ট আছে?জীবের অন্যায় আচরণ দেখিলে তুমি কি গোস্ব্যা করো? তুমি কি পাপিদের ঘৃণা করো?তুমি কি অন্যায় কাজের জন্য অভিশাপ কিংবা আশির্বাদ করে থাকো?বিশ্বাসীরা যে ভাবে বলে,তাতে মনে হয় তুমি এযুগের স্বৈরচারের চেয়েও জগন্য কায়দায় বিশ্বটাকে শাসন শোষন করছো।তাই নয়কি প্রভূ?
হে প্রভূ! তুমি যদি সর্বব্যপি হয়ে থাকো, তাহলে তো জলে স্হলে আকাশে বাতাসে শূন্যে মহাশূন্যে,অনু পরমাণুতে, পাক নাপাক, ময়লা আবর্জনা কিংবা পরিচ্ছন্নতায় সকল স্হানে সকল পদার্থে তুমি বিরাজমান,তা কি সত্য?
তোমার ইশারায় যদি গাছের পাতা না নড়ে থাকে?তাহলে কি আজ বিশ্বের ৫৪টি দেশে যে যুদ্ধ গৃহযুদ্ধ চলছে, সেটা কি তোমার ইশারায় চলছে?ইরাক সিরিয়া ইয়েমন সুমালিয়া আফগানিস্তানে যে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ হত্যা হচ্ছে, নারী শিশু বুড়ো, সেটাও কি তোমার ইশারায় হচ্ছে?প্রতিদিন রোগে শোকে সারা বিশ্বে যে  অগনিত মানুষ মরছে, সেটাও কি তোমার ইশারায়?হিরোশিমা নাগাসাকিতে যে মনুষ্য সৃষ্টি ভয়ঙ্কর এটম বোমা বিস্ফোরিত হলো, সেটাও কি তোমার ইশারায় হলো? বলো প্রভূ বলো?
হে প্রভূ! বৌদ্ধ ধর্মবিশ্বাসিরা বলে জীব হত্যা মহাপাপ,অতচ ঐ দেখ মায়ানমারে সেই বৌদ্ধরাই কি নির্মম ভাবে রোহিঙা জাতিকে নিধন করছে, তুমি কি দেখছ না?না তোমার যোগ সাজসে  হচ্ছে এই সব হত্যাকান্ড?আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা, প্রভূ তুমি বলো ?

৩, হে মহান প্রভূ! তোমার জন্ম হলো কি ভাবে--?

মুসলীম বিশ্বাসীরা বলে, তোমাকে কেউ জন্ম দেননি।তুমি নিজে নিজেই জন্ম নিয়েছ তোমার আপন মহিমায়।হিন্দু ধর্মবিশ্বাসীরা বলে তুমি ঘোর অন্ধকারে একটি আত্মার সত্বা থেকে ব্রম্ম্যা নামে জন্ম নিয়ে একটি অন্ড সৃষ্টি করে সেই অন্ড থেকে এই বিশ্ব চরাচর সৃষ্টি করিয়াছ।গ্রীক পৌরাণিক কাহিনীতে বলে আদিতে ঘোর অন্ধকার থেকে ক্যায়োস দেবতা নামে তোমার জন্ম হয়। পরে তুমি ইউরোনোম নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দাও,এই কথা সত্য কিনা প্রভূ?

৪, হে ইশ্বর! তোমার কি কোন মা-বাবা আছে--?

মুসলিমরা বলে থাকে তোমার কোন মা-বাবা নেই। তোমাকে কেউ জন্ম দেয়নি, আর তুমিও কাউকে জন্ম দাওনি।তবু খ্রিষ্টান ধর্ম বিশ্বাসীরা বলে যিষু খ্রিষ্ট নাকি ইশ্বর তোমার  পুত্র। এই বাক্য সত্য কি-না?

হে ইশ্বর! তুমি দেখতে কেমন--?

মশীহ মুসার সাথে তুমি নাকি নুরের আলো হয়ে দেখা দিয়েছ, দীর্ঘক্ষন কথা বলেছ।সেটা কি ভাবে?আলোক রশ্মি কি কথা বলতে পারে? আলো তো পদার্থ।মুসলমাদের আখেরী নবী মোহাম্মদ (সঃ) ও নাকি বোরাক নামক দুলদুল ঘোড়াতে চড়ে সাত আসমানের উপরে মেরাজে গিয়ে তোমার সাথে দেখা সাখ্যাত করে কথা বলেছে।এটা কি করে সম্ভোব প্রভূ?আধুনিক বিজ্ঞান বলে ১২০ মাইল উপর দিয়ে প্লেন চালানো যায়না।অক্সিজেনের অভাবে সেখানে নাকি প্রাণীকুল বাঁচতে পারে না। অন্যান্য ধর্মাবলীতেও বলে থাকে দেবতারা নাকি এক রকম রথে চড়ে তোমার সাথে দেখা করেছে বহুবার।এটা কি বাস্তব সত্য না জগন্য মিথ্যা?

হে ইশ্বর তুমি কি মানুষের মত কথাবার্তা বলতে পারো?

যারা বলে বলে মুখে ফেনা তোলে  তুমি নিরাকার লা-শরিখ মাবুদ আল্লাহ। যারা সদা ঝপ করে করে বলে তুমি পরম আত্মা। যারা বলে তোমার হাত পাঁ মুখ চোখ কান কিছুই নাই।তারাই আবার প্রতি বাক্যে বলে থাকে তুমি নাকি সবকিছু দেখ শূনো ইত্যাদি।এটা কি করে সম্ভোব প্রভূ তুমিই সত্যটা বলো?

হে ইশ্বর !তুমি কি মানুষের মত লেখাপড়া করতে পারো?

মুসলিমরা বলে আল্ কোরআন সহ তুমি একশত চারখান আসমানী কিতাব নাযিল করিয়াছ। তন্মধ্যে চারখানা কিতাবকে নাকি প্রধান ঘোষনা করেছ।তাহলে বাঁকি একশ খানা কিতাব কি বাতিল ঘোষনা করেছ।আর না করিলে থাকিলে সেগুলো এখন কোথায়।ধর্মবিশ্বাসিরা সে গুলো কেন এখন প্রচার করে না?তুমিই এটার সদুত্তর দিতে পার প্রভূ। সে কিতাব গুলি কি তুমি নিজে লিখেছ? না অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়েছ?কেউ কেউ বলে তুমি ওহীর মারফতে অর্থ্যাৎ জিবরাইল নামক একজন ফেরেশতার মারফতে পাঠায়েছ।একথা সত্য কিনা?

হে ইশ্বর! তুমি কি নগ্ন থাকো না মানুষের মত কাপড় চোপড় পরো--?

ধর্ম বিশ্বাসীরা সবাই ভিন্ন ভিন্ন তোমার বর্ণনা দিয়ে থাকে।কেউ বলে তুমি নিরাকার কেউ বলে তুমি সাকার।তাই প্রশ্ন করলাম প্রভূ! গোস্তাকি ক্ষমা করে দিও?

হে ইশ্বর! তুমি কোথায় বসবাস করো--?

মুসলমানরা বলে তুমি নাকি সাত আসমানের উপর আরশ কুরছিতে অনাদী কাল ধরে বসে আছো?কিম্বা বসবাস করছো। জানিনা কতটুকু সত্য?

হে ইশ্বর! তুমি কি কি জিনিস খেয়ে বেঁচে থাকো বা বেঁচে আছো---? 

মুসলমানরা বলে তুমি আহার নিদ্রা কিছুই করো না সত্য কিনা?

ইশ্বর তোমারও কি তোমার সৃষ্ট জীবের মত রোগ শোক হয়---?

হে ইশ্বর!তুমি জগত সৃষ্টি করিয়াছ কিভাবে ? 

হে প্রভূ !তুমি কেন এত সুন্দর করে এই জগত সৃষ্টি করিয়াছ-?

হে প্রভূ! তুমি মানুষ সৃষ্টি করিয়াছ কিভাবে?

হে প্রভূ তুমি মানুষ সৃষ্টি করিয়াছ কেন?

হে প্রভূ! তুমি মানুষ সৃষ্টি করিয়াছ,আবার সে মানুষের নিয়তিতে কেন জন্ম মৃর্ত্যু লিখে দিয়েছ?

হে প্রভূ! তুমি মানুষের ভিতরে প্রাণ বা আত্মা রুহ কিভাবে দিয়েছ?

                                                                                                  ---------চলবে

এক ইশ্বর হাজার প্রশ্ন?২-কুসংস্কার






 

 কুসংস্কার-ইংরেজিতে বলে(Superstion)অযৌক্তিক ব্যখ্যাবিহীন বধঅভ্যাস ও অন্ধ বিশ্বাসই হলো কুসংস্কার।  কুসংস্কার দুরকমের-যেমন প্রচলিত প্রথা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের কুসংস্কার।কুসংস্কারকে আবার সংস্কারও বলা যায়।একপক্ষের কাছে মনে হয় এটা সঠিক ও এই রকম।অন্য পক্ষের কাছে মনে হয় এটা ঠিক অন্য রকম হবে।মুলতঃকুসংস্কারের উপর  অন্ধ বিশ্বাসে ভর করেই দাঁড়িয়ে আছে আমাদের এই বিশ্বটা।যাদুটোনা ভূতপ্রেত অজানা ভয়ের আসংখ্যা অযৌক্তিক কথাবার্তা এবং কর্মকান্ড সবি হলো কুসংস্কার।যার কোন সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানীক ব্যখ্যা ওপ্রমাণাধি নাই।

তন্মধ্যে ধর্মীয় কুসংস্কার  হলো অত্যান্ত ভয়ঙ্কর ও নির্মম।সাধারণ মুল ধর্মের রিতীনীতি বহির্ভূত এক্সটা উপাসনা এবাদদ বন্দেগী তাবিজ তুমার ঝাড়ফুঁক পুজা মন্ত্র পাঠ গির্জা মন্দিরে ধুপ জালানো এসবি কুসংস্কারের আওতায় পড়ে।

এখানে সত্য কোনটা আর মিথ্যা কোনটা এই জিনিসটি নির্নয় বা সনাক্ত করতেই হয়ে যাচ্ছে মানুষের ভয়ঙ্কর সর্বনাশ।এই কারণেই মানুষের  মধ্যে এত কলহ বিরহ বিচ্ছেদ বিবাধ বিশ্বাদ দাঙ্গা হাঙ্গামা যুদ্ধ গৃহ যুদ্ধ, এত খুন এত লাশ এত রক্ত প্রবাহ।মানব জাতির সৃষ্টির শুরু থেকেই শুরু হয়েছিল এই  যত সব কুসংস্কার আর অন্ধ বিশ্বাস। সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রকৃতিক দু্র্জোগের কারণে যত মানুষ প্রাণ হারায়েছে তার চেয়ে শত শত গুন  বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এই কুসংস্কারের কারণে।জাতি সংঘের রিপোর্ট অনুযায়ি এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আজ বিশ্বের ৫৪টি দেশে যুদ্ধ গৃহ যুদ্ধ চলছে।বলা যায় মহাযুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধ।প্রতিদিন শত শহস্র মানুষ হতাহত হচ্ছে এই কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাসের কারণে।

কুসংস্কার দুরকমের।একটা হলো মানুষের স্বভাবগত,আরেকটা হলো ধর্মগত।দুটাই মানুষের কল্পিত।এটা কোন ভাবেই ইশ্বর প্রদত্ব হতে প্রমাণিত হয় না।দুটাই ভয়ঙ্কর, তবে ধর্মের কুসংস্কারটা একটু বেশি ভয়ঙ্কর।