Samstag, 28. April 2018

এক ইশ্বর হাজার প্রশ্ন-?-৩-সৃষ্টিতত্ব


                                                             সৃষ্টি তত্ব ধর্মভিত্তিক

১,গ্রীক পৌরাণিক কাহিনী মতে বিশ্বভ্রম্মান্ড সৃষ্টিতত্বের ব্যখ্যা হলো এইরুপ।আদিতে সবকিছু ঘোর অন্ধকারে ঢাকা ছিল। সেই অন্ধকার থেকেই ক্যায়োস দেবতার জন্ম হয়।এই ক্যায়োস থেকে আবার জন্ম নেয় ইউরোনোম।ক্যায়োস কন্যা ইউরোনোম জন্মের পর সমগ্র বিশ্বজুড়ে চেয়ে দেখলেন, তিনি একটু পাঁ রাখার জায়গা খুঁজে পেলেন না।কারণ তখন আকাশ ও সাগর  একত্রে ছিল।তাই তিনি প্রথমে আকাশ থেকে সাগরকে পৃথক করলেন।আদি পুরাণ মতে এই সাগর ছিল পুরোটাই জলধারা।এই জলধারার দেবতা ছিলেন ওসিনাস।সাগরের তরেঙ্গর উপর তিনি একাকী নৃত্য করিতে লাগিলেন।এরি মধ্যে ক্যায়োস দেবতা অন্ধকারের সাথে মিলিত হয়ে সৃষ্টি করলেন দিন-রাত্রি.অন্ধকার ও বাতাস।আর ইউরোনোম নাচতে নাচতে দক্ষিন দিকে অগ্রসর হতে লাগলেন, তখন তার অনুগামি হলো বাতাস।এরপর তিনি বাতাসের গতিকে নির্ধারণ করে উত্তরের বাতাস ধরলেন এবং দুহাতের ভিতর বাতাসকে ঘসলেন। এরপর তিনি ক্যায়োস দেবতা থেকে উৎপন্ন ওফিয়ন নামক একটি সাপ দেখতে পেলেন।তারপর ইউরোনোম বিশাল অঞ্চল জুড়ে নাচতে থাকলেন।। ধীরে ধীরে এই নাচের সাথে সাথে ওফিয়ন কামাশক্ত হয়ে পড়লেন।ওফিয়ন নামক সাপটি কুন্ডলি পাকায়ে ইউরোনোমকে আকর্ষন করলো।এরপর ইউরোনোম একটি ঘুঘু পাখির রে ডিম পাড়লেন।আর ওফিয়ন সাতপাকে কুন্ডলী তৈরি করে সেই ডিমকে তা-দিতে লাগলেন।অবশেষে এই ডিম দুভাগে ভিবক্ত হলো। সেখান থেকে জন্ম নিল চাঁদ সুরুজ সহ অন্যান্ন গ্রহ নক্ষত্র।একই সাথে ক্রমবিকাসের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল পাহার নদী সাগর ইত্যাদি দ্বারা সুসজ্জিত হয়ে সৃষ্টি হলো জীব ও উদ্ভিদকুল।

২,হিন্দু ধর্মমতে সৃষ্টিতত্ব--

হিন্দু ধর্ম বিশ্বাস একক কোন ধর্মগ্রণ্হ অনুসরণে গড়ে উঠেনি।যেমন ইসলাম ধর্মের প্রবিত্র আল্ কোরআন। খ্রিষ্টান ধর্মের প্রবিত্র বাইবেল। হিন্দু ধর্ম হলো প্রচীন মুনি ঋষিদের সন্মিলিত একটা দর্শণ।এর সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে একাধিক বিভিন্ন পৌরাণিক উপাখ্যান।হিন্দু ধর্মের যে এক ও অদ্বিতীয় সত্বা,তার নাম হলো ব্রাম্মা। ঈশ উপনিষদে ব্রম্মের প্রকৃতি সম্পর্কে বলা হয়েছে---ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণত,পূর্ণমুদচ্যতে,পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমে বাবশিষ্যতে--এর সরলার্থঃ উহা( পরব্রম্ম)পূর্ণ ইহা (নামরুপে স্হিত ব্রম্ম)পূর্ণঃ এই সকল সুক্ষ ও স্হুল পদার্থ পরিপূর্ন ব্রম্ম হতে উদগত বা অভিব্যক্ত হয়েছে।আর সেই পূর্ণ স্বভাব ব্রম্ম্য হইতে পূর্ণত্ব গ্রহন করিলেও পূর্ণই অর্থ্যাৎ পর ব্রম্মাঅবশিষ্ট থাকেন।ত্রিবীধ বিঘ্নের আধ্যাত্মিক,আধি দৈবিক ও আদি ভৌতিক। শান্তি হউক ঈশ উপনিষদ।উপনিষদে বর্ণিত ব্রম্ম্যা হলো এক অদ্বিতীয় সত্বা।। ইনি সুক্ষ ওস্হূল সকল কিছুর উৎস।এই উৎস থেকেই জগতের বিভিন্ন উপকরনের সৃষ্টি হয়।

এর সমর্থন পাওয়া যায় অন্যান্ন হিন্দু ধর্ম গ্রণ্হেও।যেমন-মার্কেন্ডেয় পুরানে আছে যা অব্যক্ত এবং ঋষিরা যাকে প্রকৃতি বলে থাকেন যা ক্ষয় বা জীর্ন হয় না, রুপ রস গন্ধ শব্দ ওস্পর্শহীন, যার আদি অন্ত নেই,যেখান থেকে জগতের উদ্ভব হয়েছে।যা চিরকাল আছে এবং যার কোন বিনাশ নাই, যার স্বরুপ জানা যায় না, সেই ব্রম্ম্যা সবার আগে বিরাজমান থাকেন।

উপনিষদ ও মার্কেন্ডেয় পুরান অনুসারে দেখা যাচ্ছে সৃষ্টির আদিতে পরম ব্রম্মা বিরাজ করেন।এবং সেই পরম ব্রম্মা থেকেই জগতের সবকিছু সৃষ্টি হয়।এই সৃষ্টির পক্রিয়ার স্তরগুলো মার্কেন্ডয় পুরানে য বিবৃত হয়েছে তা হলো স্বত্ব (প্রকৃতি) রজ (যার প্রভাবে অহংকারসহ অন্যান্ন মন্দগুলোর জন্ম হয়)ও তম (অন্ধকার) এই তিনগুন তার মধ্যে পরস্পরের অনুকুলে ও অব্যাঘাতে অধিষ্টিত আছে। সৃষ্টির সময়ে তিনি (ব্রম্ম) এই গুনের সাহায্যে সৃষ্টিক্রিয়ায় প্রবৃত্ত হলে প্রধানতত্ব প্রাদুর্ভুত হয়ে মহৎতত্বকে আবৃত করে। এই মহতত্ব তিন গুনের ভেদে তিন প্রকার। এর থেকে তিনপ্রকার ত্রিবিধ অহংকার প্রাদুর্ভূত হয়। এই অহংকার ও মহতত্বে আবৃত ও তার প্রভাবে বিকৃত হয়ে শব্দতন্মাত্রের সৃষ্টি করে।তা থেকেই শব্দলক্ষন আকাশের জন্ম। অহংকার স্পর্শই বায়ূর গুন।অহংকার শব্দমাত্র আকাশ যখন আকাশকে আবৃত করে,এবং তখনই স্পর্শমাত্রের জন্ম। এবং স্পর্শমাত্রাকে আবৃত করে তখন বায়ূ বিকৃত হয়ে রুপমাত্রে সৃষ্টি করে।বায়ূ থেকে জ্যোতির উদ্ভব।রুপ ঐ জ্যোতির গুন।স্পর্শমাত্র বায়ূ যখন রুপমাত্রকে আবৃত করে তখন জ্রোতি বিকৃত হয়ে রসমাত্রের সৃষ্টি করে। তাতেই রসাত্মক জলের উদ্ভব।সেই রসাত্মক জল যখন রুপমাত্রাকে আবৃত করে তখন জল বিকৃত হয়ে গন্ধমাত্রে সৃষ্টি করে। তাতেই পৃথিবীর জন্ম হয়।(মার্কেন্ড পুরাণ)

পুরানের এই বিবৃত থেকে বুঝা যায় ব্রম্মা প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রুপান্তর করে পৃথিবী সৃষ্টি করেছে।কিন্তু এই বর্ণনা আমাদের কাছে সুস্পশ্ট বর্ণানার পরির্তে এক দুর্বোধ্য কল্পনাকে সজাগ্রত করে। আবার বিভিন্ন পন্ডিতরা যখন এর ব্যখ্যা নিজেদের মত করে করতে থাকেন, তখন তা বিভিন্ন অর্থে প্রতীয়মান হতে থাকে।

মহাভরতের আদিপর্বের সৃষ্টিবর্ণন অংশের সৃষ্টিতত্ব থেকে যে ধারণা পাওয়া যায়, তা কিছুটা বিজ্ঞানের সমার্থক বলে হিন্দু ধর্ম বিশ্বাসীরা মনে করে থাকেন।আধুনিক বিজ্ঞান বলে আদিতে বস্তুপুঞ্জ একত্রিত হয়ে একটি পিন্ডের সৃষ্টি হয়েছিল।বিস্ফোরণের মধ্যে দিয়ে বর্তমান মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছিল।তবে এরসাথে ঐশ্বরিক সত্বার মহিমা যুক্তকরার কারণে এই বর্ণনা ভিন্নমাত্রায় রুপ পরিগ্রহ করেছে।

প্রথমতঃ-এই বিশ্ব সংসার কেবল ঘোরতর অন্ধকারে আবৃত ছিল।অনন্তর সমস্ত  বস্তুর বীজভূত এক অন্ড প্রসুত হইল।ঔ অন্ডে অনাদি অনন্ত অচিন্তনীয় অনির্বনীয় সত্যরুপ নির্বিকার জ্যোতির্ময় ব্রম্মা প্রবিষ্ট হইলেন।অনুন্তর ঐ অন্ডে ভগবান প্রজাপতি ব্রম্মা স্বয়ং জন্ম পরিগ্রহন করিলেন। মহর্ষিগন একতান মনে যার গুনকীর্ত করে থাকেন।সেই অপ্রেম পুরুষ দশ বিশ্বদেব দ্বাদশ আদিত্ব অষ্টবসু যমজ অশ্বিনী কুমার যক্ষ সাধুগন পিশাচ গুহ্যক এবংপিতৃগন উৎপন্ন রইলেন।ততপরে জল, পৃথিবী বায়ূ আকাশ দশদিক সংবতম ঋতু মাস পক্ষ রাত্রিও অন্যান্ন বস্তু ক্রমশ সঞ্চাত হইল।

হিন্দু ধর্ম গ্রন্হগুলোতে সৃষ্টিতত্বের রুপ মোটামুটি এই ভাবেই বিবৃত হয়েছে। এই সকল বর্ণনা অনুসারে যে সারকথা পাওয়া যায় তা হলো আদিতে ব্রম্মা নামক পরম সত্বা ছিল।উক্ত সত্বা প্রকৃতিকে বিশাল অন্ডে রুপান্তরিত করলেন।সেই অন্ড থেকে সৃষ্টি হয়েছিল বিশ্ব চরাচর, এবং দেবতাসহ অন্যান্য সকল প্রাণী। লক্ষনীয় বিষয় হলো সৃষ্টির আদিতে যে ব্রম্মান্ড সৃষ্টি হয়েছিল,তাকে  মোটামুটি কিছুটা সমর্থন করা গেলেও পৃথিবী সৃষ্টির আগে জলের অস্তিত্বের কথা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।যদিও হিন্দু ধর্ম ও দর্শণ আরো সূবিস্তৃত।তার পরেও বলা যায় গ্রীক পৌরাণের সাথে হিন্দু দর্শণের মূল কথা প্রায় একই রকম।

বাইবেলের মতে সৃষ্টিতত্ব---

বাইবেলের পুরাতন নিয়মের আদি পুস্তোক অধ্যায় শুরা হয়েছিল জগত সৃষ্টির বিবরণের মাধ্যমে।সেই বিবরণটি হলো এইরুপ---

১,আদিতে ঈশ্বর আকাশ মন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করিলেন।২,পৃথিবী ঘোর  ও শূন্য ছিল।এবং অন্ধকার জলদির উপর ছিল, আর ঈশ্বরের আত্মা জলের উপর অবস্তিতি ৩,করিতেছিলেন।পরে ইশ্বর কহিলেন দীপ্তি হউক,তাহাতে দীপ্তি হিইল।ভ৪,তখন ঈশ্বর দীপ্তি উত্তম দেখিলেন।এবং ঈশ্বর অন্ধকার হইতে দীপ্তি পৃথক ৫, করিলেন।আর ঈশ্বর দীপ্তির নাম দিবস ও অন্ধকারের নাম রাত্রি রাখিলেন।আর সন্ধা ওপ্রাতঃকাল হইলে প্রথম দিবস হইল।৬, পরে ঈশ্বর কহিলেন, জলের মধ্যে বিতান হউক ও জলকে দুভাগে ৭,পৃথক করুক।ঈশ্বর এই ভাবে বিতান করিয়া বিতানের উদ্বস্হিত জল হইতে বিতানের অবস্হিত জল পৃথক করিলেন।৮,তাহাতে সেইরুপ হইল। পরে ঈশ্বর বিতানের নাম আকাশ মন্ঢল রাখিলেন।আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে দ্বিতীয় দিবস হইল।৯,-পরে ঈশ্বর কহিলেন, আকাশ মন্ডলের নীচস্হ সমস্ত জল একস্হানে সংগৃহিত হউক ও স্হান সপ্রকাশ হউক, তাহাতে ১০,-সেইরুপ হইল। তখন ঈশ্বর স্হানের নাম ভূমি, ও জলরামির নাম সমূদ্র রাখিলেন। আর ঈশ।বর দেখিলেন যে ১১,--তাহা উত্তম। পরে ঈশ্বর কহিলেন ভূমি তৃন, বীজাতপদক ঔষধি ও সবীজ স্ব স্ব জাতি অনুযাুিয় ফলেন উৎপাদক বৃক্ষ ভূমির উপরে উৎপন্ন করুক।১২,-তাহাতে সেরুপ হইল। ফলতঃ ভূমি তৃন স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী বীবীজোতপাদক ঔষধি ও স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী সবীজ ফলের ্ৎপাদক বৃক্ষ উৎপন্ন করিল, আর ঈশ্বর দেখিলেন যে সে সকল ১৩,- উত্তম।আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে তৃতীয় দিবস হইল।১৪,পরে ঈশ্বর কহিলেন রাত্রি হইতে দিবসকে বিভিন্ন করনার্থে আকাশ মন্ডলের বিতানে জ্যোতিগর্ন হউক,সে সমস্ত চিণ্হের জন্য এবং দিবসের ও১৫, বৎসরের জন্য হউক। পৃথিবীতে দীপ্তি দিবার জন্য দীপ বলিয়া আকাশ মন্ডলের বিতান থাকুক।তাহাতে ১৬ সেইরুপ হইল।ফলতঃ ঈশ্বর দিনের উপর কতৃত্ব করিতে এক মহাজ্যোতিঃ ও রাত্রি উপরে কর্তৃত্ব করিতে তদপেক্ষা এক জ্যোতিঃ এই দুই বৃহৎ জ্যোতিঃ এবং নক্ষত্র সমূহ নির্মান করিলেন।১৭, আর পৃথিবীতে দীপ্তি দিবার জন্য এবং দিবস ও রাত্রির উপরে কর্তৃত্ব ১৮ করনার্থে এবং দীপ্তি হইতে অণ্ধকারে বিভিন্ন করনার্থে ঈশ্বর দেখিলেন যে সে ১৯ সকল উত্তম। আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে চতু্র্থ দিবস হইল।

বাইবেলের এই বর্ণনার সাথে আধুণিক বিজ্ঞানের সৃষ্টি তত্বের বিশাল পার্থক্য লক্ষ করা যায়।এমনকি কিছু কিছু খাষ্য অযৌক্তিক ও মনে হয়ে। যেমন..বাইবেলের প্রথম অংশে আমরা দেখতে পাই যে আদিতে ঈশ্বর আকাশ মন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করিলেন।পৃথিবী ঘোর ও শূন্য ছিল,এবং অন্ধকার জলদির উপর ছিল।আর ইশ্বরের আত্মা জলের উপরে অবস্হিতি করিতেছিলেন।পরে ঈশ্বর কহিলেন দীপ্তি হউক তাহাতেই দীপ্তি হইল।।

আর আধুণিক বিজ্ঞান বলে আদিতে পৃথিবী ছিল গ্যাসপূর্ন আগুনের গোলক পিন্ড হিসেবে।আর সেখানে বাইবেল আদিতে পানির অস্তিত্বকে তুলে ধরেছে।বাইবেলের এই ধারণার সাথে বিজ্ঞানের ধারণা না মিললেও গ্রীক পৌরাণিক ও হিন্দু পৌরাণিকের সাথে মিলে যায়।

হিন্দু ধর্ম মতে সমগ্র পৃথিবী জলমগ্ন ছিল। আর তার উপরে বিষ্ণু অনন্ত শয়নে ছিলেন।নার অর্থ জল। নারের উপর বিষ্ণু অবস্হান করেছিলেন বলে তিনি নারায়ন।কিন্তু ভিন্ন প্রেক্ষপটে বিচার করলে বিষয়টি অতটা অযৌক্তিক মনে হয় না।এই বিষটি নিয়ে তৃতীয় পাটে আলোকপাত করা হয়েছে।

বাইবেলের মতে চতুর্থদিনে ঈশ্বর সূর্য তৈরি করিলেন। পৃথিবী সৃষ্টির পরের কথা।বিজ্ঞানের মতে পৃথিবী এবং সূর্য একি সাতে তৈরি বা সৃষ্টি হয়েছিল।তাছাড়া গাছপালা জন্মের জন্য সূর্যর কিরণ অত্যাবশ্যকীয় উপকরন।অতচ বাইবেলের মতে সৃষ্টির তৃতীয় দিনেই গাছপালা সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।প্রাণী সৃষ্টির বেলায়ও প্রাণের ক্রমবিকাশ বা বিবর্তনের ধারা মিলেনা।- 

প্রবিত্র কুরআনের মতে সৃষ্টিতত্ব--

গ্রীক পৌরাণিক গ্রণ্হ সমূহে কিংবা বাইবেলের মতে কুরআনে বর্ণিত তথ্যাবলী উপস্হাপনেই ধারাবহিকতা রক্ষিত হয়নি।মুলত আল্লাহর স্বরুপ আল্লাহর প্রতি মানুষের আনুগত্য সহজও সরল পথ অনুসরণে মানুষের জীবন যাপনের ধারা ইত্যাদি সম্পর্কিত নির্দেশাবলী কুরআনের বিষয়। তাৎক্ষানিকভাবে উক্ত  প্রেরীত বাণী ছিল তৎকালীন আরব বাসীদের জন্য। কিন্তু এই বাণী এমন ভাবে পরিবেশন করা হয়েছিল যে যাতে করে আগামীদিনের সকল ভূখন্ডের মানুষের ও দিকনির্দেশনা পেতে পারে।এই নির্দেশনার অনুষঙ্গ বা উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সহায়ক তথ্যাবলী।এই তথ্যাবলীর ভিতর রয়েছে পূর্ববর্তী বিভিন্ন নবীদের কার্যকলাপ; প্রচীন ইতিহাস প্রকৃতি ও মানুষ সৃষ্টির বিভিন্ন তথ্যাবলী।। মানুষের জীবন যাত্রার পদ্ধত্বিসহ আরও বিবিধ প্রাসঙ্গিক বিষয়বলী এইভাবে উপস্হাপনের কারণে কুরআনের অনেক জায়গাতেই একই উদাহরণ বারবার এসেছে।উদাহরণ প্রয়োগে বা মুল নির্দেশনাটি কোন ক্ষেত্রে বিস্তৃত আকারে এসেছে।আবার কোন কোন ক্ষেত্রে অত্যান্ত সংখিপ্ত আকারে এসেছে।সে কারণে পুরো কুরআন পাঠ না করে এর অংশ বিশেষের নির্দেশ মেনে কোন বিষয়ে মিমাংশা করাটা অত্যান্ত অবিবেচকের কাজ হবে।দূর্ভাগ্য জনক হলেও আমাদের দেশে কিছু ফতোয়াবাজরা এই কাজটি বেশ নিষ্টার সাথে করে থাকেন।

প্রবিত্র কুরআনে বিশ্ব ভ্রম্মান্ড সৃষ্টির ক্ষেত্র ও তথ্যাবলী পাওয়া যায় সহায়ক উপকরণ হিসেবে।যেহুতু এই সহায়ক বাণীগুলো বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিস্তারিত বা সংখিপ্ত আকারে এসেছে।তাই কোন বিশেষ সুরার বিশেষ আয়াতকে উপস্হাপন করে বিষয়টি বুঝতে গেলে বিব্রন্তির সৃষ্টি হতে পারে।যেমন--কুরআনে মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও পৃথিবী সৃষ্টি প্রসঙ্গে ২দিন বা ৬দিনের কথা বলা হয়েছে।কুরআনের সমগ্র পাঠ উপলদ্ধি না করলে বিষয়টি বিষয়টি অবশ্যই বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।াসিুন এই বিভ্রান্তির বিষয়টি দিয়েই কুরআনের দৃষ্টিতে সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে আলোকপাত করা যাক।

সুরা আরফ, আয়াত নং৫৪--নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ।তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ৬দিনে সৃষ্টি করেছেন।এখানে সমগ্র বিশ্ব চরাচর ৬দিনে সৃষ্টির কথা সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে।এই হিসেবটা বাইবেলের সাথে মিলে যায়।কিন্তু এই আয়াতে ৬দিনের সৃষ্টিকে দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।একটি ভাগ নভোমন্ডল অর্থ্যাৎ মহাকাশ ও এর সকল উপকরণ সমূহ। দ্বিতীয় ভাগে সৃষ্টি করেছেন ভূমন্ডল অর্থ্যাৎ পৃথিবী।এখানে একটি বিষয় লক্ষ করুন।ঐখানে অধিকাংশ অনুবাদক দিন শব্দ ব্যবহার করেছেন।কিন্তু এই দিন বলতে প্রকৃতপক্ষে কি বুঝানো হয়েছে তাহাও ভাববার বিষয়।এখানে পার্থিব দিন হিসেবে মোটেই গ্রহন করা যাবেনা।কারণ সৃষ্টির আদিতে যখন পৃথিবী  ও সূর্য তৈরি হয়নি, তখন পার্থিব দিনের বিষয়টি আসতে পারেনা।আমরা জানি যে আরবী ইয়াওম শব্দের অর্থ হলো দিন।কিন্তু উক্ত আয়াতে ব্যবহার করা হয়েছে আইয়াম।উল্লেখ্য আইয়াম হলো ইওয়াম শব্দের বহুবচন।, অর্থ্যাৎ দিনসমূহ।এখানে আক্ষরিক দিবসসমূহ ব্যবহার না করে এর অর্থ গ্রহন করা উচিত কাল, পর্যায়, যুগ ইত্যাদি অর্থে।সে হিসেবে এ আয়াতের অনুবাদ হওয়া উচিত ছিল তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ৬ যুগে বা কালে সৃষ্টি করিয়াছেন। 

প্রবিত্র কুরআনে বর্ণিত এই ছয় মহাকালের মধ্যে আল্লাহ কোন পর্যায়ে  তৈরি করেছেন, তা পাওয়া যায় সুরা হামীম সেজদাতে।সুরা হামীম আয়াত নং ৯-১১--৯, বলুন তোমরা কি সে সত্বাকে অশ্বিকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দৃদিনে এবং তোমরা কি তার সমকক্ষ স্হির কর?তিনি তো সমগ্র পৃথিবীর পালন কর্তা।১০--তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগ অটল পর্বতমালা স্হাপন করেছেন।তাতে কল্যান নিহীত রেখেছেন এবং চারদিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্হা করেছেন।পূর্ন হলো জিজ্ঞাসুদের জন্য।১১, অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ...

এই সুরায় উল্লেখিত দুদিন নিয়ে বিভ্রান্তিতে পতিত হন অনাবাদগন। লক্ষ করা যায় সুরা আরফ এর ৫৪ আয়াতে ছয়টি পর্যায়ে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।অর্থ্যাৎ এখানেই এই ছয়টি পর্যায়কে দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর একটি হলো নভোমন্ডল সৃষ্টির কাল,অপরটি হলো ভূমন্ডল সৃষ্টির কাল।এই দুটি পর্যায়ের প্রথমেই নভোমন্ডল তৈরি করার সময়ই পৃথিবী তৈরি হয়ে গেছে।বিশ্ব চরাচরের প্রাথমিক বিণ্যাশে আল্লাহ মাত্র দুটি পর্যায় ব্যয় করেছেন।ফলে ছয়টি পর্যায়ের মধ্যে চারটি অবশিষ্ট থেকে যায়। এই কারণে সুরা হামীম সেজদাহ ৯ আয়াতে উল্যেখ করা হয়েছে যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুদিনে।বাঁকি চারটি পর্যায় আল্লাহ ভূমন্ডল তৈরিতে মনোনিবেশষ করলেন। ফলে পৃথিবীর উপরিভাগে পাহাড় পর্বত স্হাপন করলেন। সুরা হামীম ১০ আয়াতে তার উল্লেখ পাওয়া যায়। এই বাবে তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগ অটল পর্বতমালা স্হাপন করেছেন।এর সাথে উক্ত আয়াত থেকেই জানা যায় যে আল্লাহ খাদ্যের উপযোগি পরিবেশ ও উপকরন সৃষ্টি করেছেন।অর্থ্যাৎ নদী সাগর প্রাণ ধারনের উপযোগি বায়ূমন্ডল গাছপালা ও অন্যান্ন প্রাণী তৈরির বিষয়টিও এই সময়ে সমর্পন হয়েছিল।

আর বিজ্ঞানের মতে ১৫০০-১০০০ হাজার বছরের মধ্যে গ্যালাক্সিগুলোর বিণ্যাশ হয়েছিল বটে কিন্তু সূবিণ্যাস্ত ছিলনা।। কিন্তু ৫০০শত কুঠি বছরে যখন সূর্য পৃথিবী ইত্যাদি তৈরি হয়েছিল, তখন মহাকাশেও তেমনি পক্রিয়া চলছিল।এই পর্যায়ে কিছু কিছু নক্ষত্র তৈরির পক্রিয়া চলতে থাকলে ও তাদের অধিকাংশই তখন গ্যাসীয় অবস্হাতে ধুম্রকুজ্ঞের দিকে নজর দিলেন।অর্থ্যাৎ ধুম্রকুঞ্জের বিভিন্ন মহাকাশীয় অবজেক্ট পরিণত করলেন।সৃষ্টির এই পর্যায়ে যখন আকাশ মন্ডলের দিকে আল্লাহ নজর দিলেন, তখন মহাকাশেকে সম্প্রসারণ ও পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন।

বিষয়টি সুরা আন্ নাযিয়াতে যে ভাবে বলা হয়েছে।তা হলো--সুরা আন্ নাযিয়াত, আয়াত নং ২৭--৩০--২৭, তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন তিনি আকাশ নির্মান করেছেন২৮, তিনি একে উচ্চ এবং সূবিন্যস্ত করেছেন।২৯,তিনি রাত্রিকে করেছেন অন্ধাকারাচ্ছন্ন এবং এর সূর্যালোক প্রকাশ করেছেন।৩০,পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।

এই ছয়টি পর্যায়ের ভিতরই মহাকাশ সম্প্রসারিত হওয়ার কথা। নাকি মহাজাগতিক বিগব্যাং এর পরে কিছু সময় এই সমপ্রসারন স্তিমিত বা থেমে গিয়েছিল কি? এবং পরে এর সম্প্রসারণের পক্রিয়া চালু হয়েছিল।এই জাতিয় প্রশ্নটি উঠতেই পারে।কোন একটি বিশাল বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রে যে শূণ্যতার সৃষ্টি হয়, তার প্রতিক্রিয়ায় স্হবিরতা নেমে আসতেই পারে।

উপরের ধর্মীয় মতাদর্শ গুলো বিশ্বভ্রম্মান্ড সৃষ্টি সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছে মাত্র। এই ইঙ্গিতকে বিনা দ্বিধায় বিশ্বা করে নিতে হবে। এমন কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েচে।এই নির্দেশ মানতে গিয়ে সত্য রক্ষিত হবে কিনা তা বিবেচ্য নয়।যেক্ষেত্রে এই বিশ্বাসের সম্পর্কে সত্যানুসন্ধানের ঐক্য হবে সেখানে ধর্মবাদীরা ধর্মের সত্যনিষ্ট শক্তির কথা সগৌরবে প্রচার করেন।কিন্তু যেখানে এই  সত্য লন্ঘিত হয় সেকানেই সৃষ্টি হয় সত্যের সাথে ধর্মীয় বিশ্বাসের সংঘাত। যেমন খিষ্টান পুরোহিতদের সাথে গ্যালিলিওর মতবাদের সংঘাত।

মুলতঃ ধর্মীয় দর্শণের সাথে সংঘাতের সুত্রপাত ঘটে বিজ্ঞানের আলোকময় পথে।প্রশ্নো হলো বিজ্ঞান কি সর্বদা অভ্রান্ত না তেমনটি ভাবার কোন কারণ নাই।কিন্তু বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে চলে।ক্রুটি সয়শোধনের ক্রমধারার মধ্য দিয়েই কিন্তু ধর্মীয় বয়ানকে গোড়া থেকে অভ্রান্ত ও চিরন্তন সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।এর কোন অংশ সংশোধন করতে গেলেই ধর্মের এই চির সত্যের প্রসাদ ভেঙে পড়ে।তাই বিজ্ঞানীরা যেকানে প্রতিনিয়ত নিস্টার সাথে সত্যের কাছে পোঁছার জন্য নিজেদের সত্যকে অগাহ্য করে নতুন সত্যকে উপস্হাপন করে। সেখানে ধর্মীয় পুরোহীতরা মিথ্যা জেনেও পুরানা ধারণাকে নিষ্ঠার সাথে রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।                                               

 

------চলবে

Keine Kommentare:

Kommentar veröffentlichen