এক ইশ্বর হাজার প্রশ্ন?ধর্ম দর্শন বিজ্ঞান ও ইতিহাস,৪
ধর্ম দর্শণ বিজ্ঞান ও ইতিহাস এই চারটি বিষয়ই মানব জীবনের অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন বিষয়। এই চারটি বিষয় নিয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে এবং বেশি তর্ক বিতর্ক করে থাকে।বিজ্ঞান বাদ দিয়ে বাঁকি তিনটা বস্তুই হলো যত অঘটনের মূল কারণ।অনেকটা চোরাবালি খেলার মত।ভাঙেগড়ে চিন্তা করে গবেষনা করে।মানুষের এই চিন্তা চেতনাকে দুভাগে ভাগ করা হয়।ভাববাদী ও বস্তুবাদী।এখন প্রশ্ন হলো ভাব প্রধান না বস্তু প্রধান?
প্রখ্যাত জার্মান দার্শণিক হেগেল বিশ্বাস করতেন ভাববাদে। কার্লমাক্স আবার বিশ্বাস করতেন বস্তুবাদে।মহামতি কার্লমাক্স এই বস্তুবাদে পুরো বিশ্বকে একবার নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছেন।এখনও তার মতবাদ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি।আর ভাববাদীরা তো অনাদী কাল থেকে পৃথিবীকে নেড়ে এবং নিয়ন্ত্রন করে যাচ্ছেন।ধন্ধ দুটোতেই গোড়া থেকেই লেগে আছে।সে যাই হউক, এখন ব্যপারটা এরকম দাঁড়ায়, ঘোঁড়া আগে না গাঁড়ি আগে?কি উত্তরটা এবার সহজ হয়ে গেল না সুধী?
বিষয়টা আরো সহজ ভাবে বলা যায়, ভাব-টা হলো অনুমানও প্রতিভাস মাত্র। আর বস্তুটা হলো দৃশ্যমান কোন কিছু।মাক্স বস্তুবাদের একটি বৈজ্ঞানীক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন।আর ভাববাদের কোন বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা আজ পর্যন্ত কোন ভাববাদীরা দিতে পারেন নাই। সবকিছুই আনুমানিক নির্ভর ও কল্পনাপ্রসূত মাত্র।
দৃশ্যমান বস্তুর সাথে হয় মানুষের গভির ভালোবাসা, আর অদৃশ্য বস্তুর সাথে হয় মানুষের অনন্ত প্রেম।প্রেমকে মানুষ বলে আত্মার সম্পর্ক, সুতরাং দৃশ্যমান বস্তুর সাথেও মানুষের প্রেম হতে পারে।এক কথায় যে কোন প্রিয় বস্তুর সাথেই প্রেম হতে পারে।ইশ্বরের সাথে প্রেম হলো পরম আত্মার প্রেম।কিন্তু প্লেটনিক প্রেম বা পরক্রিয়া প্রেমকে কি বলবে সূধী?
মিলন সবার একি মোহনায়। ভাব দর্শণ বিজ্ঞান এবং ইতিহাস সবগুলিই বস্তু থেকেই উদ্ভব হয়।ভাববাদীরা একেক জন একেক রকম ব্যখ্যা দিয়েছেন।ইশ্বর দেবতা জ্বীন ভূত পেত্নি পরি ফেরেশতা সর্ঘ নড়ক সবি ভাববাদীদেরই আবিষ্কার বা সৃষ্টি।অবিশ্বাস যোগ্য হলেও এটাই চরম সত্য যুগে যুগে মানুষ এগুলিতেই বিশ্বাস করেছে, এবং আজো করে যাচ্ছে। অবিশ্বাসকে বিশ্বাস করা এবং অখাদ্যকে হালাল করে খাওয়া মানুষের বদ অভ্যাস গুলির মধ্যে অন্যতম একটি।অবশ্য কেউ কেউ অন্তরে বিশ্বাস না করলেও বিশ্বাস করার বান করে যাচ্ছে। এই বিশ্বাসীরা ইশ্বরকে একবার বানায় নিরাকার আবার বানায় সাকার।একবার বানায় স্বয়ম্ভর আবার বানায় দিগম্ভর।তাহলে জ্বীন পরি ভূত পেত্নি ফেরেশতারাও কি ইশ্বর সমতুল্য? তারাও তো নিরাকার, তাদেরকেও তো খালি চোখে কিংবা সচরাচর দেখা যায় না।আলেমরা বলে জিব্রাইল (আঃ)এর নাকি ৬শত পাখা আছে,তার মধ্যে মাত্র একটি পাখা আমাদের এই পৃথিবীর ভার বহিতে সক্ষম।তা কি সত্যি সূধী?
ধর্ম-টা হলো ভাববাদের অমৃত ফসল।প্রবিত্র ধর্ম গ্রণ্হ গুলির দুএকটি বাক্য আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে উল্যেখ করার মত হলেও তা চুড়ান্ত প্রমান সাপেক্ষ নয়।কোন ভাবেই নয়।এখানে একটি উদারন দিলেই বুঝবে সুধী।ধর্ম গ্রণ্হগুলিতে রথ পঙ্খীরাজ পাখি এবং দুলদুল ঘোড়ার কথা বলা হয়েছে। যুগে যুগে নবী আবতার আর দেবতারা উক্ত তিনটি যানবাহন ব্যবহার করে(আধুনিক বিমান বা রকেট সাদৃশ্য)অদৃশ্য ইশ্বরের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন।বিজ্ঞান বলে ১২০ মাইলের উপরে বিমান চালানো মোটেই সম্ভোব নয়।যাত্রিরা সাথে সাথে প্রাণ হারাবে।রকেট যাওয়া সম্ভোব হলে তা স্পেশাল পদ্ধত্তিতে।তাহলে দেবতারা প্রাণী নিয়ে উড়ে উড়ে খোলামেলা সাত আসমান বেদ করে সেখানে গেলেন কিভাবে?অন্ধ ধর্ম বিশ্বসীরা বলে থাকে অলৌকিক ভাবে?অলৌকিক বলতে কিছু নেই।যা ঘটে তা প্রকৃতি ও পারমণবিক ভাবে।তাই নয়কি সুধী?
ধর্ম দর্শণ বিজ্ঞান ও ইতিহাস, চারটি জিনিসই মৌলিক প্রশ্ন?এর মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে মতবেদ থাকলেও বাঁকি তিনটি বস্তু নিয়ে অর্থ্যাৎ ধর্ম দর্শণ ও ইতিহাসকে নিয়েই মানুষের মাঝে যত অঘটন ঘটেছে, যত বিবেধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।যত যুদ্ধ গৃহযুদ্ধ বেঁধেছে।এই তিনটি বস্তুই মানুষের ইস্টের চেয়েও অনিস্ট সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়েছে। তিনটি বস্তুই পারমাণবিক বোমার চেয়েও জগন্য ও ভয়ঙ্কর বস্তু।এব্যপারে সবসময় বিজ্ঞানীরা পিট বাঁচাবার জন্য রহস্য জনক ভাবে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে থাকে।তারা নিজের প্রতিষ্টিত সত্যকে ভেঙে বস্তুনিষ্ট সত্যকে প্রতিষ্টা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিশ্ব ভ্রম্মান্ডের সৃষ্টিতত্বে তাদের একটা ব্যখ্যা থাকলেও ইশ্বরতত্বে তাদের সুনির্দিষ্ট কোন ব্যখ্যা নাই।বরঞ্চ ইশ্বর আছে কি-বা নাই এই প্রশ্নে তারা দৈতমত পোষন করেন এবং দ্বিধাদন্দে ভিবক্ত থাকেন।
ধার্মীক, দার্শণিক, ইতিসবেত্তা ও বিজ্ঞানীরা এক জায়গায় এসে সহমত ব্যক্ত করেন বা এক হন। আর সেটা হলো মানবতাবাদ।আমি ব্যক্তিগত ভাবে বর্তমান যুগটাকে আধুণিক বর্বর যুগ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি।সুধী কি সত্যিই ধরে নিতে পারবে বর্তমান যুগটা হলো মানবতাবাদী যুগ? কোথায় কোন দেশে পৃথিবীর কোন কোণে মানবতা বিরাজমান?
গনতন্ত্র সমাজতন্ত্র ইশ্বরতন্ত্র রাজতন্ত্র পৃথিবীতে যত তন্ত্রমন্ত্র আছে সবি ধর্মবিশ্বাসীও ও দার্শণিকদের কারসাজি। ইতিহাসবেত্তা হাদীছবেত্তারা এসে তাতে রঙ লাগিয়ে বিষাধময় করে তুলেছে যখন সমগ্র বিশ্বকে। ঠিক তখন একেবারেই ভিন্নমতবাদ নিয়ে আবির্ভূত হলেন( ১৮০৯-১৮৮২) চার্লস ডারউইন। না বৈজ্ঞানিক না ধার্মিক না দার্শণিক, তিনি বিবর্তন বাদের থিউরি আবিষ্কার করে ( Origin of Speices ) নামে একটি বই লিখে ভাব বস্তু ও দর্শনকে মিক্সার বানিয়ে খাওয়ালেন সমগ্র মানব জাতিকে।বিজ্ঞান তাকিয়ে রয় অবাক বিশ্ময়ে।কুঠারের নিষ্ঠুর আঘাত পড়ে আদি যুগের ধর্মবাদী দর্শনবাদী ইতিহাসবেত্তা ও হাদীছবেত্তাদের মাথায়।ধর্মগুরু দার্শণিক এবং বিজ্ঞানীরা রিতিমত বিব্রতবোধ করেন এই মতবাদে।তাদের চিন্তা শক্তির ক্রোশ ক্রোশ মাইল দুরে ছিল ডারউইনের এই যুগান্তরি মতবাদ।এই যুগকে কোন যুগ বলবে সুধী?অবশ্য কেউ কেউ বলে থাকে নবযুগ।
ধর্ম-টা কি--?আসলে আমরা মানব জাতির আদি ইতিহাস ও সৃষ্টিতত্বের ইতিহাস পর্যালচনা করলে দেখতে পাই যে ধর্মটা দুই প্রকারের।একটা হলো স্বভাব ধর্ম, আরেকটা হলো কল্পিত ধর্ম। স্বভাব ধর্ম জীব ও উদ্ভিদ জগতে সৃষ্টির শুরু থেকেই বিকশিত ও বিদ্যমান।আর কল্পিত ধর্ম মানুষের মাঝে বিদ্যমান হলেও আদিতে বিকশিত হয় নাই। আদিতে মানুষের মধ্যে মানব জাতির মধ্যে স্বভাব ধর্মের বাহিরে এক্সটা ছিল কিছু নিয়মনীতি প্রথার প্রবণতা। প্রকৃতির দুর্জোগে খরা বন্যা ঝড় তুফান ভূমিকম্প ইত্যাদি ভয়ের কারণেই এই গুলোর উদ্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সতরশ সতাব্দীর মাঝামাঝি এসে আদিকালের মানুষের সব প্রথা বিশ্বাস ভাবাবেগকে বলা কহার সার্থেই ধর্মে রুপান্তরিত করা হয়েছে।যেমন আজ মুসলমানরা তাদের ধর্মকে ইসলাম ধর্ম বলে থাকে।শুরুর দিকে ইসলাম ধর্ম বলা হতো না।বলা হতো দ্বীনে ইসলাম।আরবিতে দ্বীন শব্দের অর্থ হলো আইন।তা হলে দাঁড়ায় আইনে ইসলাম বা ইসলামের আইন।ভারতের শিখ ধর্মকে বলা হতো হুকুম। গুরুর হুকুম।এখন বলা হয় ধর্ম।হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মকে ধরা হতো প্রথা বা কার্লচার। এখন বলে ধর্ম।জৈন আজবিক সহ শুধু ভারতেই শতাধিক ঋষি মুনিদের প্রচলিত প্রথা ছিল।সবচেয়ে আশ্চার্যর বিষয় হলো এই সব মুনি ঋষি মেসেঞ্জার বা প্রপিট নবী পয়গম্বররা সবাই ছিলেন আন আলফাবেট বা নিরক্ষার।পেশায় সবাই ছিলেন রাখাল বয়। যেমন ইবরাহিম আঃ ঘোড়া গাধা এবং বকরি চরাতেন।মুসা নবী ছাগলের পাল চরাতেন, আমাদের সবার প্রিয় নবী মোহাম্মদ সাঃ মেষ চরাতেন,যরাথুটস্ত্র ধর্মের প্রবক্তা উঠ চরাতেন,কৃষ্ণ তো ধেনু চরাতেন, আজবিক ধর্মের গোশালের জন্মই হয়েছিল গোশালে।এই সব নিরক্ষর রাখালেরা যুগে যুগে আবতার হয়ে পৃথিবীতে এসেছেন মানব জাতির জন্যে অমৃতের বাণী নিয়ে। প্রবিত্র ধর্মগ্রন্হ গুলি নিয়ে।আমরা যাকে বলি আসমানি গ্রন্হ বা কিতাব।আসমান থেকে আসুক আর জমিন থেকে আসুক সত্যিই প্রতিটি গ্রন্হেই গ্রতিত হয়েছে এক একটি ঐশি বাণী
পৃথিবীর সমস্ত জীব ও উদ্ভিদ সমানভাবে তার স্বভাব ধর্ম পালন করলেও কল্পিত ধর্ম এক মাত্র মানুষেরাই পালন করে থাকে।বিশ্বাসীরা ধর্মকে ইশ্বর প্রদত্ব মনে করলেও এটার ভিতরে ডুকেছে রেওয়াতি ও কুসংস্কার। চরম পর্যায়ে। রেওয়াতি হলো অমুকে দেখেছে, অমুকের কাছ থেকে শূনেছে,অমুকে বলতে দেখেছে, এই গুলিকে বলে রেওয়াতি ।ধর্মচেতনার মধ্যে জ্ঞানের চেয়ে ধ্যনের সাধনা হয় বেশি।যাকে ইংরেজিতে বলে মেডিটেশন।
দর্শণ-টা কি--?সৃষ্টিতত্বের উপর ও মানব জাতির মঙ্গলের জন্য সুদুরপ্রসারি গভীর জ্ঞান প্রজ্ঞার প্রচেষ্টা ও সার্বিক বিষয়ে বোধবুদ্ধি সন্মত পথ পাথেয় দিক নির্দেশনার নামই হলো দর্শণ।ধর্ম ও দর্শণের বিষয়বস্তু প্রায়ই অভিন্ন।দুটোকেই বলা যায় দর্শণ।দুটাতেই কল্পিত মানবীয় এবং বায়বীয় অপ্সারাদের অনাবৃত অভিসারের ব্যখ্যাও বর্ণনা পাওয়া যায়।কিন্তু মিলন-টা সুদুর পরাহত।
ধর্ম চেতনা এবং দর্শণ চেতনা দুটোই ভয়ঙ্কর ও জগন্য। দুটাই একটা নিরীহ সরলসিদা জাতি গোষ্টির উপর খঞ্জর হাতে হামলিয়ে পড়ে।কেউ আসে ধর্মের লেভাস পরে, আবার কেউ আসে বিপ্লবের লেভাস পরে।দুপক্ষই চায় মানব মুক্তি কিংবা মঙ্গল।অতচ মানুষের হয় ভয়ঙ্কর সর্বনাশ।দেশে দেশে হয় আমকতল।মাটি ভিজে হয় রক্তে লালে লাল।ধার্মিক ও দার্শণিক তারা নিজেরাও নিজেদের উপর ডেকে আনে ভয়ঙ্কর বিপদ।সক্রেটিসকে বাদ্য করা হয় বিষপানে প্রাণ দিতে।তার শিষ্য প্লেটোকেও পালিয়ে বাঁচতে হয়েছে।এরিস্টটলকে দ্বিপান্তরে আত্মগোপনে থেকে মরতে হয়েছে,গ্যালিলিও কে প্রাণ দিতে হয়েছে।িআধ্যাত্বিক কবি মনসুর হাল্লাজিকে টুকরো টুকরো করে হত্যা করেছে সুন্নি মুসলমানরা। ইমাম বোকারিকে আত্মগোপনে থেকে মরতে হয়েছে।ইমাম হানেপি ইবনে তাহমিয়াকে জেলখানায় নিপিড়নে মরতে হয়েছে। এইতো সেদিন মিশরের স্বৈরচার নাসের বিশিষ্ট ইসলামি কবি সাহিত্যিক সাইয়াদ কুতুবকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে মিশরের স্রৈচার সরকার।এরকম ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত বা উদারণ দেওয়া যাবে।সবকিছু হয়েছে শুধু ধর্মের নামে, ইশ্বরের নামে। যাকে সোজা কথায় বলে নর বলি, আজো হচ্ছে নিরন্তর।
প্রশ্ন জাগে? What nonces Relijon and Pilosopy?What is the democraci and Soceilist?সন্ধান করতে হবে এই সবের শেখড় কোথায়?
ধর্মব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে ইসলামের নবী একটি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন। তা হলো এমন একদিন আসবে সেদিন ইসলাম বলতে কিছুই থাকবেনা।কোরআনের মধ্যে থাকবে শুধু কিছু অক্ষর।আর মসজিদগুলো থাকবে ফাঁকা দালান ঘর।সেখানে কোন প্রকার হেদায়েত ও কল্যাণমুলক দিকনির্দেশনা থাকবেনা।সেদিন আলেম নামধারিরা হবে সবচেয়ে দুষ্ট প্রকৃতির ও সন্ত্রাসী ও বিশৃঙ্খলাকারী।(বোখারী শরিফ)
দার্শণিক আল্ বেরুনির মতে, আরবি ভাষাতে বিজ্ঞানের আলো প্রবেশ করেছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে, যা তাদের অন্তর ভেদ করে উন্নত করেছিল।কিন্তু আরবি ভাষার যাদু ওঅলঙ্করণ প্রবেশ করেছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের রক্তে ও শিরায়।প্রথম অবস্হায় আরবে ধর্মীয় সাহিত্যে ও সংস্কৃতিতে অনুপ্রবেশ করে ইহুদী খ্রিষ্টান কৃষ্টি কার্লচার।তারপর আসে গ্রিক হেলেনিক সভ্যতার প্রভাব।প্রচীন গ্রীক সভ্যতা তখন দর্শণ ওবিজ্ঞানের বিষয়গুলি চিন্হিত করে ফেলেছিল।গণিতবিদ্যা, জীববিদ্যা রসায়নবিদ্যা পদার্থবিদ্যা চিকিৎসা বিদ্যা ভূগোলবিদ্যা এবং নক্ষত্রবিদ্যা গুলি তারা পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতা থেকে গ্রহন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমেই প্রকাশ করেছিল।আবার নিজেদের মত করে সাহিত্যে ও সংস্কৃতিতে মিশর সিরিয়া আরব মুল্লকসহ বহিঃবিশ্বে চড়িয়ে দিয়েছে বা চড়িয়ে গেছে।যেমনি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য চড়িয়েছে।
রেনেসাঁর যুগে সমগ্র ইউরোপ জুড়ে শুরু হয়েছিল সংসাকৃতিক সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক রাষ্ট্রিয় বিপ্লবসহ নানাবিদ বিপ্লব।এই সব বিপ্লব ধর্মীয় অনুভূতিকে কোনঠাসা করে তোলে।সংস্কৃতিক হলো সকল দলমত বর্ণের মিলনস্হল।এখানে সুষ্ঠ সুন্দর সামাজিক উৎকর্ষ সাধিত হয়।সংস্কৃতিক উৎসবে মানুষ ভেদভেদাভেদ ভূলে উদার ও আনন্দে মেতে উঠে।বর্তমান বিশ্বে সকল দেশে সকল জাতিতে এই সংস্কৃতিক উৎসব পালিত হয়।
সংস্কৃতির জন্ম হয় সৃজনশীলতায় ও গ্রহনশীলতায়। যে জাতি সংস্কুতি সৃষ্টি করতে পারেনা, সে জাতি অন্যের সৃষ্টি বরণ বা গ্রহন করেই হয় সংস্কৃতিবান।যারা সৃষ্টি করতে পারেনা, আবার গ্রহনও করতে পারেনা, তারা আসলেই নির্বোধ জাতি,কিংবা বণ্য জাতি।
আমরা বাঙ্গালীরা যে সব সংস্কৃতিক উৎসব পালন করে থাকি তা কি আমাদের নিজস্ব সৃষ্টি বা নিজস্ব সৃজনশীলতার মাধ্যমে পেয়েছি?উত্তর হবে না। আমরা গ্রহনশীলতার মাধ্যমেই পেয়েছি।আমাদের ধর্ম আরবের ও ভারতবর্ষের।আমাদের প্রশাসনিক সংস্কৃতি আর্য মৌর্য গুপ্ত পাল ইরান তুরান তুর্কি মঘ মোগল ইসলামি ও ইংরেজদের থেকে পাওয়া।আমরা হলাম রক্তসঙ্কর ও বর্ণসঙ্কর জাতি।পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির ডিএনএ বহন করে আমরা হলাম জগা খিচুরি একটা জাতি।আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মিশ্র পাঁচ মিশালী।গ্রহন করা জাতি কি কোনদিন স্বাতন্ত্রিক হতে পারে?একটা জাতি স্বাতন্ত্রিক হতে হলে পুরোটাই গ্রহন করতে হবে। মেরা জুতা হ্যায় জাপানী,এ্যয় ফেতলুন ইংলিসস্হানি ফেরবি হিন্দুস্হানি হলে হবেনা।
আমাদের পূর্ব পুরুষরা ছিল বিজাতি,তারা গ্রহন করেছে ভীনদেশি ধর্ম বর্ণ কর্ম পদ্ধতি ও সংস্কৃতি।আমরা শরিরে বহে চলেছি বিজাতির রক্ত।সে জন্য আমাদের মধ্যে কোন লজ্জাবোধ না থাকলে স্বস্হিবোধ না থাকলে ঐক্যবোধ হবে কিভাবে?পরের সৃষ্টি গ্রহন করে আমরা হয়ে গেছি পন্ডিত মহা পন্ডিত।টক শোতে এসে ঝড় তুলি।কথায় কথায় ইংরেজি আওড়াই।বিদেশি সাহিত্যের রেফরেন্স দেই।অমুক প্রফেসার তমুক বারিষ্টার কিংবা ডাক্তার।দুপয়সা বাড়তি পাওয়ার জন্য বা বাড়তি সুজোগ সুবিধার জন্য নীতিভ্রষ্ট হয়ে যাই।কুকুরের মত উচ্চিষ্ট খাই।
যাদের যা হবার কথা নয় আজ তারা তা হয়ে গেছে।কেউ জিরু থেকে হিরু আর কেউ হিরু থেকে জিরু।নেবু চাদ নেজারের জিরু আবিষ্কার সার্থক হয়েছে।আমরা করছি রক্তে রচিত ইতিহাস বিকৃতি।আমরা আগাত হানছি নিজস্বস্বত্বা বাঙ্গালীত্বকে। আমাদরে ভাষায় ব্যবহারে সুরুচি সৌজন্যবোধ অত্যান্ত সিমীত।আমরা সালাম দেই আরবিতে অথবা হিন্দিতে। আরবের বেদুঈন আমাদের প্রিয় নবি।ভারতের কবিকে ধরে এনে বানিয়েছি আমাদের জাতিয় কবি।ভারতের ভ্রাম্ম নিরীশ্বরবাদী কবিকে বলি কবিগুরু বিশ্ব কবি। সুধী বলো নজরুল রবিন্দ্রনাথ আসলেই কি বাঙ্গালী?তারাকি মানতেন তাদের নিজস্ব ধর্মের রিতিনীতি?হতে পারে ভাষায় বাঙ্গালী কিন্তু প্রকৃত অর্থে বাঙ্গালী হবে না।উনারা শুধুই ভাববাদী একধরণের ব্যবসায়ি, কিন্তু কোনদিনই দার্শণিক হতে পারেন না।পরের সৃষ্টি গ্রহন করা কবিকে আমরা বরন করে নিয়েছি আমাদেরই সার্থে।আমাদের অক্ষমতার জায়গায় তারা সক্ষমতা এনে দিয়েছে বলেই।তার জন্য কৃতজ্ঞ না জানায়ে উপায় কি?আমাদের এত বড় রক্তেরচিত ইতিহাস থাকতেও আমরা হলাম আজ একটা অসুখি জাতি।আমাদের মধ্যে কেন এত মতনৈক্য বিশ্ময়!শুধুই বিশ্ময়!
সবাইকে মনে রাখতে হবে, ভাব মানুষকে নিয়ন্ত্রন করেনা।মানুষকে নিয়ন্ত্রন করে সামাজিক সুশাসন ও চলমান বাস্তব অবস্হা বা পরিস্হিতি।অপ্রিয় হলেও সত্য আমাদের রক্তে রচিত মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস কিছু লোককে মোটেই প্রভাবিত করেনা।তিরিশ লাখ শহীদ হলো কি হলো না, দুলক্ষাধিক মাবোনের সম্ভ্রমহানি হলো কি হলো না,তাতে তাদের কিছু যায় আসে না।তারা চায় শুধু ভালো আর্থসামাজিক অবস্হা। তারা চায় উন্নত জীবন ও সুশাসন।সে কারণেই মুক্তি যুদ্ধের চেতনা আজ বিনষ্ট এবং বিকৃত।এই দ্বায়ভার কার? রাজনীতিবীদদের না ইতিহাস বেত্তাদের সূধী?
Keine Kommentare:
Kommentar veröffentlichen